ব্রাজিল থেকে আমদানি করা কুষ্টিয়ায় মজুদ দুই হাজার টন গম নিয়ে বেকায়দায় আছেন খাদ্য অফিসের কর্মকর্তারা। সরকার কৃষকের কাছ থেকে যেখানে গম ২৮ টাকা কেজি দরে কিনছে সেখানে ব্রাজিলের গম ১৫ টাকা দরেও কিনছে না কেউ।
আটার ডিলার, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে এসব গম ব্যবহার করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। গমের দাম কম হওয়ায় টিআর ও কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
কুষ্টিয়া খাদ্য অফিস সূত্র জানিয়েছে, ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম কুষ্টিয়ার বিভিন্ন গোডাউনে মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় মজুদ আছে ৬০০ টন। বাকি ৫টি উপজেলায় মজুদ রয়েছে ১ হাজার ৩০০টন। তবে এসব গম ব্যবসায়ী ও প্রকল্পের পিআইসিরা নিতে চাচ্ছেন না। এক প্রকার বাধ্য হয়ে তারা এসব গম নিচ্ছেন।
জেলা পিআইও অফিস সূত্র জানা গেছে, কুষ্টিয়ায় টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের আওতায় যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তাতে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম দেওয়া হচ্ছে। তবে কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না পিআইসিরা। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
একটি সোলার প্যানেল বসাতে কমপক্ষে খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে ২টন গম বরাদ্দ দিয়েও একটি সোলার প্যানেল বসানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সোলার প্যানেল বসানোর যে সব প্রকল্পে ১ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল সেখানে কোন কাজই করতে পারেননি পিআইসিরা।
খাদ্য ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, বাজারে দেশি গম বিক্রি হচ্ছে ২২ টাকা থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে। আর সরকার কৃষকদের কাছ থেকে গম কিনছে ২৮ টাকায়। সেখানে ব্রাজিলের গমের মান এত খারাপ যে কেউ কিনতে চাচ্ছে না। আর কিনলেও ১৪ থেকে ১৫টাকার বেশি দাম দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কুষ্টিয়ায় কয়েকজন আটা মিল মালিক বলেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে আমরা আটা সরবরাহ করি। ব্রাজিলের গমে আটা হচ্ছে ৫৫০ গ্রাম। প্রতি কেজিতে ২০০ গ্রাম আটা কম হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, যেসব টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে গম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে সে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, একটি প্রকল্প শেষ করতে ৫০ হাজার টাকা প্রেেয়াজন। সেখানে ৩ টন গম বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। কাজ শেষ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গমের মান ভাল হলে দাম বেশি পাওয়া যেত।
আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও একাধিক কাজের পিআইসি সেলিম জানান, যেসব প্রকল্পে গম রয়েছে সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ সংকট হচ্ছে। ব্রাজিলের গমে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কুষ্টিয়া কুমারখালী পিআইও অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, ব্রাজিলের গম নিয়ে প্রকল্প কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এ গম কেউ কিনতে চাচ্ছে না। যার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা স্বপন কুমার কুন্ডু বলেন, ‘টিআর, কাবিখা ও অন্যান্য প্রকল্পে ব্রাজিলের গম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ গমের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গমের মান ও রং কিছুটা খারাপ বলে তিনি জানান।
ইআর





