৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংস্কারের কাজ শুরু না হলে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের আল্টিমেটাম দিয়েছে চট্টগ্রাম পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বৃহষ্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক বৈঠকে তারা এই আল্টিমেটাম দেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহসড়কে চট্টগ্রাম অংশের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের এতটাই বেহাল দশা যে, গাড়ি চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সড়কের মধ্যে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর এ সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে সড়কেই আটকা পড়ছে গাড়ি। এ ছাড়া সড়কের দুরাবস্থার কারণে আধাঘণ্টার রাস্তা অতিক্রম করতে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে।

তিনি অভিযোগ করেন, গত সপ্তাহে যোগাযোগমন্ত্রী চট্টগ্রামে এসে এসব সড়কের সংস্কার কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়ে গেলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। এই অবস্থায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা না হলে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

বৈঠকে পরিবহন নেতারা ঈদের আগের চারদিন এবং পরের চারদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাক ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার পরিবহন নেতাদের দাবিমতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

বৈঠকে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মনজুরুল আলম মঞ্জু, বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ, বন্দর ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হকসহ বিভিন্ন পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন নেতা, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের কর্মকর্তা এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চরম দুরাবস্থার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগেই থাকে। চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী এলাকা থেকে সীতাকুণ্ড মিরসরাই পর্যন্ত মাত্র ৬০/৭০ কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করতে প্রতিটি যানবাহনের সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। প্রতিদিন সড়কের এই অংশে যানজটে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।

ঢাকা. ১০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ