এ সময় জানানো হয়, আগামী ৩০ নভেম্বর (রোববার) থেকে ২ ঘণ্টা ও ৩ ডিসেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি এবং ৪ ডিসেম্বর থেকে কমপ্লিট শাটডাউন চলবে। পরিষদের সমন্বয়ক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (এম-ট্যাব) মহাসচিব মো. বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব জানান, ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং স্মারক লিপি প্রদান করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পরিষদের মহাসচিব মো. রিপন শিকদার বলেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি টিম ওয়ার্ক, যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রোগীদের সেবাদানে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোগ নির্ণয় (এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, রক্ত পরীক্ষা)। এতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা।

অন্যদিকে ফার্মাসিস্টরা মেডিসিন স্টোরের দায়িত্ব, ওষুধের চাহিদাপত্র প্রস্তুতকরণ, সংরক্ষণ, মাননিয়ন্ত্রণ, বিতরণসহ ইত্যাদি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও পেশাটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, বৈষম্য আর বঞ্চনায় জর্জরিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পেশাধারীদের তিন দশকেও দশম গ্রেডের পদমর্যাদা বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৯৪ সাল থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পেশাজীবীরা দশম গ্রেড পদমর্যাদার দাবি করে আসছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে নানা কর্মসূচি পালন, দাপ্তরিক চিঠি প্রদান ও আবেদন করা হয়েছে। জনপ্রশাসন বিধি শাখার সব চাহিদা পূরণ করা হয়েছে। ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড এবং বেতন দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ বিবেচনার জন্য ২০০৩ সালে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপন হলেও এ পর্যন্ত দাবিটি বাস্তবায়িত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মন্ত্রণালয় সময়ক্ষেপণ ও জটিলতাই তৈরি করেছে। ‘অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড পদমর্যাদার দাবি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। সবশেষ গত বছর একাধিকবার দশম গ্রেডের জন্য স্বাস্থ্য

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৪ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সমমানের পদে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমাধারীদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদাসহ দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে ২০১৭ সালে নার্সিং ডিপ্লোমাধারী এবং ২০১৮ সালে কৃষি ডিপ্লোমাধারীদেরকে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু একই যোগ্যতার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমটিএ) সভাপতি খাজা মাইনুদ্দীন মঞ্জু, বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পরিষদের সভাপতি আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী মো. সাইফুল্লাহ, এমট্যাবের সভাপতি একেএম মুসা আল লিটন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফোরামের সভাপতি মো. সোহেল রানা, ডিপ্লোমা ফার্মাসি অ্যাসোসিয়েশন (ডিফ্যাব) সদস্য সচিব মো. নাজমুল হুদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এনএইচ