রাজশাহীর শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত তামান্না রহমান হৃদির মা বাবা অভিযোগ করেছেন, তাদের একমাত্র মেধাবী মেয়ের স্বপ্নকে ঝলসে দিয়েছে মুনাফা লোভি ফ্লাইং একাডেমির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এটা ইঞ্জিনের ত্রুটি নাকি ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর সাইদ কামালের ভুলের জন্য হয়েছে তা এখনো রহস্যজনক কারণে অজানাই রয়েছে।
সোমবার দুপুরে রাজশাহীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
হৃদির মা-বাবা বলেন, তারা ইতোমধ্যে তামান্নার নিহতের ঘটনায় প্রশিক্ষণ পরিচালনা নিয়ে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির অবেহেলা ও গাফিলতির বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত হাতে পেয়েছেন। আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সবকিছু হাতে এলেই তামান্নার মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
লিখিত বক্তব্যে নিহতের মা-বাবা বলেন, গত ৩১ মার্চ তামান্না সলো ফ্লাইট সম্পন্ন করে। পরের দিন ১লা এপ্রিল তার সলো নাইট পার্টি এ্যারেঞ্জ করার কথা ছিলো। এরপরেও ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর সাইদ কামাল তাকে নিয়ে বিমানে উঠলেন এবং যেখানে ৬০০ ফুট থেকে টার্ন নিয়ে ল্যান্ড করার কথা সেখানে করলেন মাত্র ১৮০ ফুট উপর থেকে। এতে প্রশিক্ষণ বিমানটি রানওয়েতে ঠিকমত ল্যান্ড করতে না পেরে বাইরে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।
তারা আরও বলেন, আগুন ধরার ১০ মিনিটের মধ্যে ইন্সট্রাক্টর সাইদ কামাল বিমান থেকে বের হতে পারলেও তামান্না বের হতে পারেনি। তামান্না বের হওয়ার চেষ্টা করেছে এবং বাঁচার জন্য চিৎকার ও আকুল আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যাননি। তারা প্রশ্ন করেন, এই ১০ মিনিট তো অনেক সময়। এর মধ্যে কেন তামান্না জীবন্ত কয়লা হয়ে গেল ?
তারা প্রশ্ন রাখেন, আর্ন্তজাতিক আইন অনুযায়ী ফ্লাইং একাডেমি এবং সিভিল এভিয়েশনসহ যে কোন এয়ারপোর্টের রানওয়েতে ২৪ ঘন্টা ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক ও রেসকিউ টিম এবং এ্যাম্বুলেন্স রেডি থাকতে হবে। যাতে দুর্ঘটনার ২ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া যায়। অথচ দুর্ঘটনার সময় শাহ্ মখদুম এয়ারপোর্টের মধ্যে এসবের কিছুই ছিল না।
ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রাচীর টপকে এগিয়ে আসলেও ২১ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। কিন্তু তার আগেই তামান্না পুড়ে রোস্টেড হয়েছে এবং আগুন আপনা-আপনিই নিভে গেছে।
তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির চিফ ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জামান রুমি একজন ভুয়া ব্যক্তি। তার ভুলের কারণে ফারিয়া লারা, রফিকুল ইসলাম, সাকিব, কামরুল ইসলাম ও তামান্নার মতো তরুণ পাইলটরা অকাতরে প্রাণ দিয়েছে। এছাড়া তিন দশকের বেশি পুরানো এয়ার ক্র্যাফ্ট এবং ভাঙ্গা প্লেন দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তারা। নষ্ট সিট বেল্ট, নষ্ট হুইল, পুরোনো ক্ষয়ে যাওয়া ইঞ্জিন দিয়ে তারা এই কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তামান্না মা বাবা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির পাহাড় সমান দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য তাদের মেয়েকে হারাতে হয়েছে। তারা ফ্লাইং একাডেমির এসব অব্যবস্থাপনা ও তামান্নার মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তদন্ত সাপেক্ষে তাদের শাস্তির দাবি জানান। যাতে ভবিষ্যতে আর কোন স্বপ্নে অপমৃত্যু তথা সম্ভাবনার মা-বাবার বুক খালি না হয়।
জেআই





