করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বা টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধনের পর অতি দ্রুত ৫ জনকে ভ্যাকসিন নিতে দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখান।
তবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আগে আগে নিলে বলবে, নিজেরাই আগে নিয়ে নিছে। সবাইকে না দিয়ে। সবাইকে দিয়ে নিই, তারপর নেব।”
বুধবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে কর্মসূচি উদ্বোধনের পর তা নিজে দেখেন এবং টিকা গ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
বাংলাদেশে প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নার্স রুনু বেরোনিকা কস্তা। এরপর একে একে একই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আহমেদ লুৎফুল মোবেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা, ট্রাফিক পুলিশ মো: দিদারুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরান হামিদের শরীরে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। মাত্র ৫ মিনিটেই ৫ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্পন্ন হয়।
গ্রহণকারীদের কোনও কষ্টবোধ না হওয়া এবং গ্রহণের পর হাসিমুখ দেখে প্রধানমন্ত্রী নিজেও উৎফুল্ল হয়ে পড়েন। সবার ভ্যাকসিন নেওয়া দেখে তিনি নিজেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শেষ মুহূর্তে এই মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমার তো মন চাইছে, আমরাও গিয়ে টিকা নিয়ে আসি। না থাক। শেষে আগে আগে নিলে (সমালোচকরা) বলবে, নিজেরাই আগে নিয়ে নিছে। সবাইকে না দিয়ে। সবাইকে দিয়ে নিই, তারপর নেব।”
উল্লেখ্য, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মন্তব্য করেন, “সবার আগে প্রধানমন্ত্রীর ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।” এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও একই মন্তব্য করেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী আগে টিকা নিলে জনগণ ভরসা পাবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী টিকা নিলে ভ্রান্ত ধারণা কেটে যাবে। অনাগ্রহ কাটিয়ে টিকা নিয়ে আগ্রহী হবে দেশবাসী। তখন জনগণ উপলব্ধি করবে, আপনারা দেশের মানুষের কল্যাণে নিবেদিত, জনগণকে আপনারা সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসেন।”
এমবি





