বাতাসের তীব্র চাপে রাকিব হাওলাদারের মলদ্বার থেকে পেটের মধ্যের স্থানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শনিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক কাজী মোস্তাক আহমেদের কাছে এ প্রতিবেদন এসেছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস।

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাক বলেন, রাকিবের মলদ্বার দিয়ে কম্প্রেসার মেশিনের মাধ্যমে দেওয়া বাতাসের চাপে তার পেটের ভেতরের নাড়ি, মলদ্বার, প্রসাবের থলি ফেটে যায়। এছাড়া পেটের ভেতরে অতিমাত্রায় রক্তক্ষরণ হয় এবং তা ছড়িয়ে পড়ে।

“রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।”

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন শিশুটির ময়না তদন্ত করেছেন।

তিনি বলেন, “বাতাসের তীব্র চাপে শিশু রাকিবের মলদ্বার থেকে পেটের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই শিশুটি মারা গেছে।”

এছাড়া তীব্র বেগে বাতাস শরীরের ভেতরে প্রবেশ করায় শিশুটির ফুসফুস স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারিয়েছিল এবং দুই হাতের ১০টি আঙুল, হাতের কব্জি ও দুই পায়ের গোড়ালিতে কালো হয়ে রক্ত জমাট হয়ে যাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ৩ অগাস্ট খুলনা নগরীর টুটপাড়ার একটি মোটর ওয়ার্কশপে কম্প্রেসার মেশিনের পাইপ দিয়ে মলদ্বারে হাওয়া ঢুকিয়ে নির্যাতনে মারা যায় ১২ বছরের শিশু শ্রমিক রাকিব।

এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে টুটপাড়া কবরখানা এলাকার শরীফ মোটর্সের মালিকসহ তিনজনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।

এএইচ