বগুড়ার কাহালুতে সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্র নাঈমুল ইসলাম নাঈমকে অপহরণ, হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে ফেলার মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া লাশ পোড়াতে সহযোগিতা করায় একজনকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বুধবার বিকালে জনাকীর্ণ আদালতে প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাফিজুর রহমান এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দু’জন শুরু থেকে পলাতক রয়েছে; গ্রেফতারের পর তাদের সাজা কার্যকর হবে।

তারা হলেন- বগুড়ার কাহালু উপজেলার উলট্ট পূর্বপাড়ার আবদুল মান্নানের ছেলে মো. জাকারিয়া (২৩) ও একই গ্রামের আলিমুদ্দিনের ছেলে মো. ডালিম (১৯)।

সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলেন- একই গ্রামের আহম্মেদ আলীর ছেলে ভাটার ফায়ারম্যান আবদুল মতিন মতি (৩২)।

আদালত ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা ৭ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।

এছাড়া আসামিদের দন্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাদের ৬ মাস করে কারাদণ্ড। দন্ডবিধির ৩৮৬ ধারায় ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাস করে কারাদণ্ড।

দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাদের ৭ বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আসামি আবদুল মতিন মতিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, বগুড়ার কাহালুর রুস্তম চাপড় গ্রামের পরিবহণ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম তালুকদারের ছেলে নাঈমুল ইসলাম নাঈম কাহালু পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো। বাবা বিত্তশালী হওয়ায় আসামিরা শিশুটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুসারে ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নাঈম যখন স্কুলে যাচ্ছিল তখন তারা তাকে সাজেশন দেবার কথা বলে চারমাথা এলাকা থেকে অপহরণ করে। কাছেই জাকারিয়ার সারের দোকানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। এরপর মোবাইল ফোনে নাঈমের বাবা রফিকুল ইসলামের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওইদিন বিকালের মধ্যে টাকা না পেয়ে ও নাঈম তাদের চিনে ফেলায় হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিকাল ৫টার দিকে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে শিশু নাঈমকে হত্যা করে জাকারিয়া ও তার সঙ্গী ডালিম। এরপর লাশ বস্তায় ঢুকিয়ে দোকান বন্ধ করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে জাকারিয়া ও ডালিম মোটরসাইকেলে দোকানে আসে। লাশভর্তি বস্তা মোটরসাইকেলে তুলে কাছেই জাকারিয়ার বাবা আবদুল মান্নানের ইটভাটায় নেয়া হয়। এরপর ভাটার ফায়ারম্যান আবদুল মতিন ওরফে মতি লাশটি ভাটার জ্বলন্ত চিমনির মধ্যে ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় শিশুর বাবা রফিকুল ইসলাম কাহালু থানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পুলিশ জাকারিয়ার দোকান থেকে নিহত নাঈমের ব্যাগ, বই, টিফিন বক্স, পানির বোতল উদ্ধার করে। মতিসহ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহালু থানার এসআই আনোয়ার হোসেন ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। এরা হলেন- জাকারিয়া, আসাদুজ্জামান, ডালিম, শাহাদত হোসেন, শাকিল মোল্লা এবং আবদুল মতিন মতি। উচ্চ আদালত আসাদুজ্জামান ও শাহাদত হোসেনের মামলা স্থগিত এবং শাকিলের মামলা শিশু আদালত বিচারাধীন রয়েছে।

এপিপি নাসিমুল করিম হলি জানান, তারা এ মামলার রায়ে সন্তুষ্ট।  

হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু নাঈমের বাবা রফিকুল ইসলাম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।  

বাদিপক্ষের আশা করেন, উচ্চ আদালতেও এ সাজা বহাল থাকবে।

এমই