কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনায় ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে নানা অনিয়মের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ৮টি খাতের মধ্যে ৬টি খাতের অর্থই হরিলুট করা হয়েছে।
সরকারি অর্থ হাতানোর বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত হলেই ফেঁসে যেতে পারেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাচনের সহকারী রির্টানিং অফিসার মোঃ রেজাউল করিম।
সুত্র জানায়, চলতি বছরের গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ দফায় অনুষ্ঠিত হয় ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। অবাধ, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গত ১১ফেব্রুয়ারী ১৭.০০.০০০০.০৩৭.৪০.০০১.১৪.৪৩ নং স্বারকে ৯২ হাজার এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারী ১৭.০০.০০০০.০৩৭.৪০.০০১.১৪.৪৭ নং স্বারকে ২১ লক্ষ ৯১ হাজার টাকাসহ দু’দফায় ২২ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্ধ পায়।
নির্বাচনের রির্টানিং অফিসার এবং কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মুজিব-উল-ফেরদৌস ০০.০০.৫০০০.০২১.২৭.০০৩.১৪.৮৩ (যুক্ত) ৫নং স্বারকে বরাদ্ধের অর্থ এবং অর্থের সুষ্ঠু ব্যায় বিভাজন করে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম’র নিকট প্রদান করেন।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রির্টানিং অফিসার রেজাউল করিম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দেয়া গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ৭২৮৬৭৫৪ নং চেক এবং ১ ফেব্রুয়ারি ৭২৮৬৭৫৮ নং চেক গ্রহণ করেন। একই সাথে দেয়া হয় খাতওয়ারী ব্যায় বিভাজন। সহকারী রির্টানিং অফিসারের জন্য ব্যায়ের খাত ছিল ৮টি। এরমধ্যে ৬ টি খাতের সিংহ ভাগ অর্থই ভুয়াবিল ভাউচারের মাধ্যমে হরিলুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী অর্থ হরিলুটের দোসর হয়ে কাজ করেছেন নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পউটার মুদ্রাক্ষরিক আবুল হোসেন মোল্লা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১নং সীটের ৯ম কলামে ডাক, ফ্যাক্স, বিশেষ বার্তা, বাহক, মুদ্রণ, অ্যাপায়ন ও আনুসংগিক ব্যায় ৩০ হাজার টাকা, ১০ কলামে খন্ডকালীন করণিক এবং খন্ডকালীন পিয়নের পারিশ্রমিক ভাতা বাবদ ১২ হাজার, ১১ কলামে সহকারী রির্টানিং অফিসারের পিওএল, স্প্রীডবোট, জলযান, ট্রলার, ট্যাক্সি, ভ্যান ভাড়া ও আনুসাংগিক খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকাসহ ৯২ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। এখাতে সর্বোচ্চ ৮/১০ হাজার টাকা প্রকৃত ব্যায় করে বাকি টাকা ভুয়াবিল ভাউচার করে হরিলুট করা হয়।
নির্বাচনের সময় ৪৮টি কেন্দ্রে ৩৫৮টি কক্ষ ছিল। কোন অস্থায়ী ভোট কক্ষ ছিল না। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরা কেন্দ্র পরিদর্শন করে কোনো অস্থায়ী বুথ বা কক্ষ পাননি। অথচ ২নং সীটের ১০ কলামে ৪৫টি অস্থায়ী ভোট কক্ষ নির্মান করে ৪৫ হাজার টাকা ব্যায় দেখানো হয়েছে। এছাড়াও ১২ কলামে নির্বাচনের ফলাফল প্রচারের জন্য কন্টোল রুমে মাইক, বোর্ড, মাল্টিমিডিয়া ও অ্যাপায়ন বাবদ ২০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। ১৩ কলামে ব্যালট পেপার, অনান্য নির্বাচনী দ্রব্যাদি ভোট কেন্দ্রে প্রেরণে’র জন্য যানবহন বাবদ ৪৮টি কেন্দ্রের বিপরীতে প্রতি কেন্দ্রের জন্য ২ হাজার টাকা করে ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। সহকারী রির্টানিং অফিসার ৯৬টি ইঞ্জিনচালিত অবৈধ নসিমন ভাড়া করে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, অনান্য নির্বাচনী দ্রব্যাদি ভোট কেন্দ্রে প্রেরণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নসিমন চালক জানান, তাদেরকে মাত্র ৩’শ টাকা করে ভাড়া দেয়া হয়েছে। অথচ প্রত্যেক নসিমন চালককে দেয়ার কথা ছিল ১হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ৯৬ নসিমন’র প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭’শত করে বরাদ্ধের সিংহ ভাগ অর্থই হরিলুট করা হয়।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রির্টানিং অফিসার রেজাউল করিম বলেন, কোনো অর্থ হরিলুট করা হয়নি। নিয়ম মেনে অর্থ ব্যায় করা হয়েছে। সব খরচেরই ভাউচার দেয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন’র রির্টানিং অফিসার মোঃ মুজিব-উল-ফেরদৌস জানান, গত ২৯ মার্চ ছিল ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ব্যয় তালিকা প্রদানের শেষ তারিখ। ব্যয়ের চূড়ান্ত তালিকা সহকারী রির্টানিং অফিসার জমা দিয়েছে। যা এখনও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণ করা হয়নি। তবে দ্রুত প্রেরণ করা হবে।
কোনো উদ্বৃত্ত অর্থ নির্বাচন কমিশনে ফেরত দেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ঢাকা, ১২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





