অভিযোগ রয়েছে, তিনি বর্তমানে একাধিক মামলার আসামি এবং পলাতক। এছাড়া তিনি পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্র জানায়।

সূত্র মতে, অলিউল্লাহ আহমেদ ১২ মার্চ ২০২৫ তারিখে বিসিসির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি একটি বিশেষ সিন্ডিকেট তৈরি করে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রশাসন শাখা বিসিসির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ, যেখানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমের সমন্বয়, তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ পরিচালিত হয়। এখানে কর্মী ব্যবস্থাপনা, ফাইল প্রক্রিয়াকরণ, নথিপত্র সংরক্ষণসহ প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদানের মতো সংবেদনশীল দায়িত্ব পালন করা হয়।

জানা যায়, বিসিসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কীভাবে আওয়ামী পন্থী ব্যক্তিরা এখনও প্রভাব বিস্তার করছেন—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়রা জানায়, অলিউল্লাহ আহমেদ এলাকায় ছিলেন না। তিনি এসএসসি সম্পন্ন করে ঢাকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

বিসিসির একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, যোগদানের পর থেকেই ওই কর্মকর্তা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন শাখা হলো প্রতিষ্ঠানের হৃদপিণ্ড—এখান থেকেই সব ধরনের কার্যক্রমের সমন্বয়, তদারকি ও নীতিনির্ধারণ হয়। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখায় যদি ব্যক্তিস্বার্থে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, তাহলে পুরো প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সূত্রটির মতে, প্রশাসন শাখার দায়িত্ব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে ওই কর্মকর্তা নিজস্ব প্রভাব বিস্তার, জনবল বদলি-বদলির প্রভাব খাটানো, বিভিন্ন সুবিধা অর্জন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলার মতো কাজ করছেন। এতে প্রতিষ্ঠানে অস্বচ্ছতা ও অসন্তুষ্টির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে বিসিসির প্রশাসনিক কাঠামো শৃঙ্খলাহীন হয়ে পড়তে পারে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে বিসিসির প্রোগ্রামার ও ডেপুটি ম্যানেজার (মানবসম্পদ) অলিউল্লাহ আহমেদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

বিসিসির পরিচালক (বিডি আইটেক) মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, তার বিষয় কিছু বলতে পারবো না। কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। বিসিসির নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবু সাঈদের টেলিফোনে একাধিকবার ফোন দিয়ে লাইনে পাওয়া যায়নি।

এনএইচ