পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬টার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করেন। পরে খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট একান্তে কথা বলেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ঘণ্টাখানেকের আলোচনায় দুই পক্ষ ঢাকা এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত অংশীদারিত্বসহ সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়সহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার বিষয়ে মত বিনিময় করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।
তাকে ঢাকায় স্বাগত জানিয়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া পোস্টে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তার এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’’
সফরের প্রথম দিনে সার্জিও গর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার তার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখার কথা রয়েছে।
শুক্রবার তার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখার কথা রয়েছে।
সফরের শেষ দিনে আগামী শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করবেন সার্জিও গর।
বেইজিং সফর, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক যুক্ততা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্জিও গর হচ্ছেন ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা সফরকারী যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সার্জিও গরের সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, একই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের মূল্যায়নও এ সফরে প্রতিফলিত হতে পারে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাও তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন।
গর লেখেন, আমার প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল রহমানের সাথে সাক্ষাৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করতে পেরে আমি আনন্দিত। অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে।
এমএম