কারখানা নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে যথাযথভাবে কাজ করে যাওয়ার ওপরই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নির্ভর করছে বলে জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।

আজ বিজিএমইএ কর্তৃক এক মধ্যাহ্ণভোজের আয়োজনে বক্তৃতা প্রদানকালে তিনি এ কথা জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তির ব্যবস্থাপনায় বিজিএমইএ-র অনন্য ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ' বিজিএমইএ শিল্পের মাধ্যমে লাখো শ্রমিক দারিদ্রের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। যার কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে আমার কার্যকালে যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ কথাটির মর্যাদা নিশ্চিত ও আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে গিয়ে যে অর্জন আর চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে, তার মূল্যায়নের সুযোগ পাওয়ার জন্যও কৃতজ্ঞ আমি। ২০১৩ সাল থেকে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সহায়তায় আপনারা তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে বিশাল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। এগুলো এখন বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ কারখানাগুলোর মধ্যে পড়ে'।

বিজিএমইএ-র প্রতি পরামর্শ দিতে গিলে তিনি বলেন, 'আমি আপনাদের অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেবো। কষ্টার্জিত অগ্রগতি ধরে রাখার জন্য আরসিসি (রেমিডিয়েশন কোঅর্ডিনেশন সেন্টার) পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নিতে তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এসএমও (সেফটি মনিটরিং অর্গানাইজেশন) এর মতো অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে বলবো আপনাদের'।

তিনি আরও বলেন, 'বিজিএমইএ-র জন্য পরবর্তী বড় বাধাটি হচ্ছে শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ে অগ্রগতি ছিল শ্লথ। আমি যে কথাটা অনেকবার জোর দিয়ে বলেছি, আন্তর্জাতিক শ্রম নীতিগুলো মেনে চলা কেবল সঠিক কাজই নয়, এটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমি আপনাদের যত দ্রুত সম্ভব আইনগত প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনাতে উৎসাহিত করতে চাই। বিষয়টি দীর্ঘায়িত করলে কোনো লাভ হবে না। আইনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত এবং তা কার্যকর করলে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে। এটি বিশ^বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ব্যবসার অংশ বাড়াতেও সহায়তা করবে। ভোক্তারা এখন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রম ইস্যুগুলোকে ক্রমেই বেশি করে বিবেচনায় নিচ্ছে। তাই ব্যবস্থা নিতে দেরি করা অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। বিদেশি ক্রেতাদের অন্যত্র ঝুঁকে পড়ার হুমকিও বাড়বে'।

বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে ৪৭ বছরে এতদূর এসেছে। এদেশের আরও অনেক কিছু অর্জনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সম্প্রতি এ দেশ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অর্জনটি উদযাপন করেছে।

এছাড়া ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের তিনটি শর্তের প্রত্যেকটিই এরই মধ্যে পূরণ করার জন্য তিনি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।


জেড