শনিবার (২০ জুন) প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া— মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার কার্যক্রম ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিবন্ধন আবেদন এসেছে ৮৯ হাজার ৮৯৭ টি। এরমধ্যে বায়োমেট্রিক প্রদান করেছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। তদন্ত সম্পন্ন কিন্তু অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এমন আবেদনের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৮ টি। তদন্ত শেষে অনুমোদন হয়েছে ৪৭ হাজার ১৩২ জনের আবেদন।
তদন্তে বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২ জনের আবেদন। তথ্য আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে ১০ হাজার ১৪১জনের আর আপলোড করা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৬ জনের। এর মধ্যে স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করা যাবে এমন এনআইডির সংখ্যা ৭ হাজার ২৬৯ টি। ইতোমধ্যে প্রিন্ট করা হয়েছে এমন কার্ডের সংখ্যা ২২ হাজার ১৮ টি যা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মিশন অফিসে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ভোটার নিবন্ধন আবেদন ২৩ হাজার ৯৪০টি এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, আর সবচেয়ে কম দক্ষিণ আফ্রিকা ১২৬টি আবেদন। সৌদি আরবে নিবন্ধন আবেদন জমা পড়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজার ৩০টি। ইতালিতে ৯ হাজার ৩৮টি। কুয়েতের আবেদন জমা পড়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। কাতার থেকে আবেদন করেছেন ৫ হাজার ৪০৬ জন প্রবাসী।
মালোশিয়ায় ১ হাজার ৮৩৩ টি আবেদন এসেছে। অস্ট্রেলিয়াতে আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ২০৬ জনের। কানাডাতে মোট আবেদনের সংখ্যা ৩ হাজার ২৯৮ টি। জাপানে আবেদন পড়েছে ৩০৯ টি। যুক্তরাষ্ট্রে থেকে এনআইডি পেতে আবেদন করেছেন ১৬ হাজার ৮১২ জন। মালদ্বীপে নিবন্ধন আবেদনের সংখ্যা ২৯৮ টি। ওমানে নিবন্ধন আবেদনের সংখ্যা ২ হাজার ২৪৬টি।
প্রবাসীদের ভোটার হতে যা প্রয়োজন
প্রথমে প্রবাসীদের অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র (ফরম-২(ক)), মেয়াদযুক্ত/মেয়াদহীন বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যায়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে (দূতাবাসের ডেস্কে) জমা দিতে হবে। এছাড়া বিশেষ ৫৬টি উপজেলা/থানার (চট্টগ্রাম অঞ্চল) নাগরিকদের জন্য বিশেষ তথ্য ফরম, শিক্ষা সনদ, পিতা-মাতার এনআইডি, মৃত্যু সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), ড্রাইভিং লাইসেন্স/টিআইএন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, নিকাহনামা, স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি, নাগরিকত্ব সনদ, ইউটিলিটি বিলের কপি, ভাড়াটিয়া হলে বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র ও বাড়িওয়ালার অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হবে।
বাধ্যতামূলক নয় এমন তথ্য নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দিতে না পারলে প্রবাসীরা দেশে থাকা আত্মীয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট দেশে বসে ফরম পূরণ ও তথ্য যাচাই শেষে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে আবেদন অনুমোদন করবে এবং এনআইডি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হবে
এমএম