রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা ছিল।

ইশরাক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে উত্তেজিতভাবে এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে তিনি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত লাইসেন্সের আওতাভুক্ত এবং আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

এতে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকাটি মাদক কারবারিদের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।

এলাকায় পুলিশি জনবল বাড়ানো এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় আধাসরকারি পত্র পাঠানো হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নাধীন।

প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করার পর পুলিশের উপস্থিতিতে সন্দেহভাজন স্থাপনাগুলোতে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অভিযান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় পদার্থ, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, নগদ টাকা এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা সামগ্রীসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, জব্দ করা পদার্থের পরীক্ষার ফলাফল কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অভিযানের সময় অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর ছবি ও সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমের সমালোচনা করেছে তাঁর কার্যালয়। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, কিছু সংবাদমাধ্যম ঘটনাটির আংশিক তথ্য তুলে ধরে অভিযানের সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ করেনি।

ইশরাক হোসেনের দাবি, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ছয়জনকে আটকের বিষয়টি উপেক্ষা করে সংবাদ প্রকাশের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ কারণে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তাঁর অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো ঘটনা উপস্থাপন করে মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জনস্বার্থে মাদকবিরোধী কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইশরাক হোসেন।