এখন আর ভিক্ষার জন্য হাত পাতেন না ৪২ বছরের দৃষ্টিহীন লিটন শেখ। অথচ এক বছর আগেও বাসযাত্রীদের কাছে ভিক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে দিতেন তিনি। এখন সেই হাতে বাসযাত্রীদের কাছে বিক্রি করেন বাদাম। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাসে বাসে বাদাম বিক্রি করে প্রতিদিন আয় করেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
আর এই ভাবেই দেশের প্রথম ভিক্ষুকমুক্ত জেলা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পথে নড়াইল। জেলার ৭৯৮ ভিক্ষুকের হাত এখন কর্মীর হাত।তিন উপজেলার ৭৯৮ জন ভিক্ষুককে চিহ্নিত করে তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। ফলে দেশের প্রথম ভিক্ষুকমুক্ত জেলা হতে চলেছে নড়াইল। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
লিটনের মতো ২০ জন দৃষ্টিহীনসহ মোট ৩৯ জন প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষের কেউ আর ভিক্ষা করেন না। নড়াইল শহরের বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসা-বাড়ি, শহর-বন্দরসহ লোকালয়ে কোনো ভিক্ষুকের দেখা মেলে না।সবাই এখন কর্মজীবী।
কেউ বাজারে বিক্রি করছেন সবজিসহ কাঁচামাল, অনেকে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করছেন। স্কুল-কলেজের সামনে ছোট মুদি দোকান দিয়েছেন কেউবা। অনেকে প্রতিবন্ধী হওয়ায় শারীরিক পরিশ্রম করতে কিছুটা কষ্ট হলেও ভিক্ষার মতো লজ্জাজনক পেশায় আর ফিরে যেতে চান না। ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে পেরে তারা সবাই খুশি।
নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে তিনটি উপজেলা ও ৩৯টি ইউনিয়নের ৭৯৮ জন ভিক্ষুককে চিহ্নিত করে সব এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নারী আছেন ৫৫৫ এবং পুরুষ ২৪৩ জন।
জেলার ভিক্ষুকদের তালিকা করে তাদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সহযোগিতায় ভিক্ষুকদের মাঝে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, সেলাই মেশিন, ভ্যানগাড়ি, ছোট দোকান, ওজন পরিমাপকযন্ত্র, টিন ও নগদ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪৭ লাখ টাকার পুঁজি গঠন করে প্রত্যেককে ঋণ সৃষ্টি করে উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেওয়ায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
নড়াইল জেলা প্রশাসক মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অথবা পদস্থ কোনো কর্মকর্তা নড়াইল জেলাকে প্রথম ভিক্ষুকমুক্ত জেলা হিসাবে ঘোষণা করবেন।
উজ্জল/নাজিব





