শনিবার ডিএমপির দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো এবং পিকেট ডিউটি জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে নগরজুড়ে থানা মোবাইল প্যাট্রোল, ফুট প্যাট্রোল ও হোন্ডা প্যাট্রোলের (মোটরসাইকেল টহল) সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেকোনো বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ), সিটিটিসি এবং এপিবিএন টিম মোতায়েন রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতাও কামনা করেছে ডিএমপি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ীসহ কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে মালিবাগ রেলগেটের কাছে প্রধান সড়কে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনতলা ফ্লাইওভার থেকে এগুলো ছোড়া হয়েছিল।
বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে মহাখালীর আমতলী এলাকায় আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে এটি ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী থানার মূল ফটকের কাছেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, থানার সামনে চার থেকে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন কর্মকর্তারা এবং তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছেন।
সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনেও একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে কোনো আলামত উদ্ধার করতে পারেনি। শব্দটি ককটেল বিস্ফোরণের নাকি পটকার, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন-অর-রশীদ জানান, মৌচাক এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে কাফরুল থানার সামনে একটি মিরপুর সুপার লিংক বাসে আগুন লাগে। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার জানান, দুর্ঘটনার জেরে কয়েকদিন আগেই বাসটি জব্দ করা হয়েছিল এবং এটি থানার সামনে পার্ক করা ছিল। তিনি বলেন, কেউ বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ডিএমপি জানিয়েছে, এমন প্রেক্ষাপটে সন্দেহভাজন গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতে ঢাকা জুড়ে কৌশলগত স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
চলতি মাসে রাজধানীতে ধারাবাহিক কয়েকটি একই ধরনের ঘটনার পর সর্বশেষ এই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের বাইরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও তিনটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
এর আগে, ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডিএমপি ঢাকার প্রবেশপথ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি ব্লক চেক জোরদার করা হয় এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ এই নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা এবং রাজধানীজুড়ে জননিরাপত্তা বজায় রাখা।
এমএম





