রাজধানীর গুলিস্তানের নির্মাণাধীন ট্রেড সেন্টারের অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মঙ্গলবার দুপুরে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়। নির্মাণাধীন ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার টিনের বেড়া দিয়ে বানানো স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন থেকে জানানো হয়েছিল মার্কেটের বেজমেন্ট উচ্ছেদ করা হবে।

এদিকে নির্মাণাধীন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের এ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার (পোড়া মার্কেট) বহুতল বিশিষ্ট মার্কেট নির্মাণ শুরু করলেও বেজমেন্টের কাজ করেই বসে আছে সিটি করপোরেশন। এ অবস্থায় মার্কেটের নির্মাণ শেষ করে দোকান মালিকদের পুনর্বাসনের আগে বেজমেন্ট থেকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তবে এ উচ্ছেদ বহাল থাকলে প্রতিরোধের ডাক দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোয়েব মাহমুদ বলেন, মার্কেটের ভেতরে টিনের বেড়ার অস্থায়ী দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তবে বেজমেন্টের দোকানগুলো নিয়ে মামলা চলমান থাকায় আপাতত সেসব উচ্ছেদ করা হচ্ছে না।

তিনি জানান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ভবনটি দখল করে রাখা হয়েছে। দখলের কারণে প্রাপ্ত অর্থ ডিএসসিসি পাচ্ছে না এবং ভবনের নির্মাণ কাজও সম্পন্ন করতে পারছে না। এ জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশক্রমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি জিএম আতিকুর রহমান বলেন, ২০১২ সালে হাইকোর্টে একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার বেজমেন্টের সব মার্কেট অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কেটের পক্ষ থেকে একটি আপিল করা হয়, যা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ করতে পারে না।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে মার্কেটটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর ১২ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু মার্কেটের কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বেজমেন্টে মালামাল রাখছেন।