জাপান সফর শেষে আজ শুক্রবার বিকেলে(৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, যৌথ বিবৃতিতে বিগ-বি (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) উদ্যোগকে বাংলাদেশ ও জাপানের একান্ত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এতে কোনো তৃতীয় দেশের প্রসঙ্গ নেই। অন্য দেশকে সম্পৃক্ত করে কোনো আঞ্চলিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উপস্থিতি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাতারবাড়ী ও বিগ-বি উদ্যোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামির আমিরের মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের যৌথ বিবৃতি ভালোভাবে পড়া উচিত। সেখানে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো কোনো বিষয় নেই।

জাপানের পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরে ৬৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তিনি জানান, শিগ্‌গিরই একটি অর্থনৈতিক মিশন বাংলাদেশ সফর করবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদের হার, ব্যয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন অনুদান ও ঋণনির্ভর সম্পর্কের পরিবর্তে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমান অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারের হাতেই। মিয়ানমারকে আলোচনায় আসতে হবে এবং প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

জাপানের এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশে সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনায় জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী টার্মিনালটি পরিদর্শন করেছেন। জাপান থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ওই পরিদর্শন করা হয়নি।

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বার্থ, জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই সব আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকারের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে এবং সংবেদনশীল বিষয়ে সংসদে আলোচনা করা হবে।