শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সংসদ সচিবালয়ে সূত্র রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পদত্যাগের বিষয়টি রাষ্ট্রপতি নিজেও স্বীকার করেছেন। একটি শীর্ষ অনলাইন গণমাধ্যমে একজন সাংবাদিক হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের ব্যাপারে বলেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’ পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’
মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন- এমন খবর নিয়ে গত দুই দিন ধরেই আলোচনা চলছে দেশের গণমাধ্যমে। এর মধ্যেই থাইল্যান্ডে সফর সংক্ষিপ্ত করে দুদিন আগে আজ শুক্রবার সকালে দেশে ফিরেছেন সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি চিকিৎসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে ওই পদে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আপাতত স্পিকার হাফিজ উদ্দিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এর আগে তিনি ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তখন বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে বিএনপি বরাবরই রাষ্ট্রপতিকে সরানোর পক্ষে ছিল না। ফলে শেষ পর্যন্ত টিকে যান মো. সাহাবুদ্দিন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার ঘটন করলে নতুন সরকারকে শপথ পড়ান সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তখন থেকেই কবে তাকে সরানোর হবে সেই প্রহর গোনা হচ্ছিল। অবশেষে সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় তিনি বঙ্গভবন ছাড়ছেন।
এস