ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে জন্ম নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।
তারা নগরবাসীর কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধনের নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত আরো অর্থ আদায় করছেন। শুধু তাই নয়,নগরবাসীর কাছ থেকে আদায় করা ওই অর্থ জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় নিয়মিত জমা হচ্ছে না এমন অভিযোগও উঠেছে।
ডিএনসিসির সূত্র মতে,প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিকটবর্তী জনতা ব্যাংকের পৃথক অ্যাকাউন্টে জন্ম নিবন্ধনের আদায় করা টাকা নিয়মিত জমা দেয়ার নির্দেশ মানছেন না সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
জানা যায়,ডিএনসিসির আঞ্চল-৪ সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা আলী,আঞ্চল-২ সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাখাওয়াত হোসেন,আঞ্চল-৫ সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.ফিরোজ আলম,আঞ্চল-৩ সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এমদাদুল হক,অঞ্চল-১ সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজিজুন নেসা এবং তাদের নির্ধরিত রেকর্ড কিপার,কম্পিউটার অপারেটর ছাড়া বহিরাগত বেশ কয়জন দালাল চক্র প্রতিদিন নগরবাসীর কাছ থেকে কৌশলে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
তারা জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটের জন্য নির্ধারিত ফি প্রতি বছরের জন্য ১০ টাকা আদায়ের নির্দেশ মানছেন না। এই নির্ধারিত ফি’র বাইরে প্রতি সার্টিফিকেটের জন্য আরো ৩ থেকে ৪ শত টাকা হারে আদায় করেন। যারা অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি হয় না,তারা সহজে জন্ম নিবন্ধনের সার্টিফিকেট পায় না। তাদেরকে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরানো হয় এমন অভিযোগও উঠেছে।
ডিএনসিসির সূত্র জানায়, প্রতিদিন ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে শুধু নির্ধারিত ফি বাবদ কালেকশন হয় ৪০ হাজার টাকা হিসেবে ২ লাখ টাকা। সেই হিসেবে প্রতি মাসে ৩০ দিনে ২ লাখ টাকা হিসেবে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আদায় হয়। কিন্তু আদায়কৃত নির্ধারিত এই অর্থ নিয়মিত জনতা ব্যাংকের শাখায় জমা হয় না। এক মাস কখনো ২ মাস পর আংশিক টাকা জমা হয়।
আরো অভিযোগ উঠেছে জন্ম নিবন্ধনের টাকা কর্মকর্তারা নিজেরা ব্যাক্তিগত কাজে বিনিয়োগ করেন। সব সময় ২/৩ মাসের টাকা তাদের হাতে জমা রাখেন। কম্পিউটারে ডাটা সংরক্ষিত থাকলেও রেজিষ্টারে উঠানো হয় না এমন অভিযোগ উঠেছে। আর অর্থ তারা নিজেরা ভাগা করে নেন।
এই অভিযোগে শুধুমাত্র আঞ্চল-৪ সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা আলী,আঞ্চল-২ সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাখাওয়াত হোসেনকে এক দফতর থেকে আরেক দফতরে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু বাকিদের বিষয়ে প্রশাসন এখনো নিরব রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে,ঢাকা সিটি করপোরেশনে ২০০৫- ২০১০ সাল পর্যন্ত বিনা মূল্যে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট দেয়া হতো। ২০১০- ২০১৩ সালের ২০ জুলাই পর্যন্ত ১৮ বছরের নিচে বিনা মূল্যে এবং এর বেশি বয়স হলে নির্ধারিত ৫০ টাকা হারে ফি নিয়ে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকে দেয়া হতো। কিন্তু গত বছর ২২ জুলাই থেকে সবার কাছ থেকেই প্রতি বছর ১০ টাকা হারে জন্ম নিবন্ধন ফি নিয়ে সার্টিফিকেট দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরপুর ১০ নম্বরে আঞ্চলিক কার্যালয়ের স্বাস্থ্য বিভগের একাধিক কর্মচারী জানান,জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট যখন বিনা মূল্যে ছিল তখনো টাকা ছাড়া সহজে কেউ সার্টিফিকেট নিতে পারত না। অতিরিক্ত টাকা নেয়াটা এখন ওপেন সিক্রিট বিষয়। শুধু মিরপুর কেন গুলশান,কাওরান বাজার এবং উত্তরার অফিসেও জন্ম নিবন্ধনের কাজে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে পত্রিকায় লিখে কোনো লাভ নেই।
ওই কর্মচারীরা আরো জানান,সার্টিফিকেটের সংখ্যা এবং নির্ধারিত টাকার পরিমান জানতে হলে সংরক্ষিত জন্ম নিবন্ধন শাখায় সংরক্ষিত রেজিষ্টার,কম্পিউটারের ডাটা এবং জনতা ব্যাংকের এস্ট্রেটমেন্ট পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেই সব কিছু বেরিয়ে আসবে।
এদিকে ভুক্তভোগী পশ্চিম কাজীপাড়ার বাসিন্দা ৩৫ বছরের জসিম উদ্দিন জানান,তার কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটের নির্ধারিত ফি-৩৫০ টাকার বাইরে অতিরিক্ত নেয়া হয় আরো ২'শ টাকা । অতিরিক্ত টাকা না দিয়ে অনেক ঘুরতে হবে এই কথা শোনার পর তিনি অতিরিক্ত টাকা দিয়েই জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক টাইমনিউজবিডিকে জানান, নিয়মিত ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার বিষয়টি সহজ করার জন্যই নিকটবর্তী জনতা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করে দেয়ার হয়েছে।
তিনি বলেন,জন্ম নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অর্থ লুটের অভিযোগ অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। জন্ম নিবন্ধনের টাকা নিয়মিত জমা না দিয়ে অত্মসাত করলে,অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
[b]ঢাকা,একে,২৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]
জাতীয়
ডিএনসিসিতে জন্ম নিবন্ধনের অর্থ লুট
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে জন্ম নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। তারা নগরবাসীর কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধনের নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত





