সোমালি জলদস্যুদের হাতে সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় বন্দী থাকার পর মুক্তি পাওয়া ৭ নাবিককে ৫ লাখ করে মোট ৩৫ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নৌপরিহন মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের উদ্যোগে নাবিকদের এ ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।

এসময় নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা যে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন তা ক্ষতিপূরণ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এতদিন বন্দী থাকায় তারা স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেক দূরে ছিলেন।’

সাড়ে তিন বছর পর সোমালি জলদস্যুদের হাত থেকে গত ৬ জুন মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরা ও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্ত নাবিকরা হলেন- সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের সুলতানপুরের গোলাম মোস্তফা, ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান, একই গ্রামের নূরুল হক, সাতক্ষীরার আশাশুনির কুল্যার আবুল কাশেম, চাঁদপুর জেলার লিমন সরকার এবং চট্টগ্রামের আমিনুল ইসলাম ও জাকির হোসেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী এমভি আলবেদো থেকে গত ২০১০ সালের ২৬ নভেম্বর তাদের অপহরণ করেছিল সোমালি জলদস্যুরা। এরপর থেকে তারা সেখানেই বন্দী ছিলেন।’

চেক প্রদান অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এয়ার এডমিরাল খোরশেদ আলম, নৌপরিবহন সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর জাকিউর রহমান ভূইয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিভাগ (ইউএনওডিসি) এবং কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় কোনো রকম মুক্তিপণ ছাড়াই এ নাবিকদের মুক্ত করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ৭ জুলাই জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় এমভি আলবেদো ডুবে যায়। নাবিকদের তখন নাহাম-৩ নামে ছিনতাই করা আরেকটি জাহাজে তোলা হয়।

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই