রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মীর শাহে আলম বলেন, গত বছর দেশে ডেঙ্গুতে লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মারা যান ৪১৩ জন। চলতি বছর আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। এটিকে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের একটি ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে বিশেষ বা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
তবে ফগার মেশিনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, বিষয়টি টাস্কফোর্সের সভায় আলোচনা হয়েছে।
পিরোজপুর নিয়ে উদ্বেগ
চলতি বছর দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। শহরাঞ্চলের বাইরে কোনো একটি জেলায় হঠাৎ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়াকে কিছুটা আশ্চর্যজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পিরোজপুরে ডেঙ্গুর বিস্তারের কারণ অনুসন্ধানে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানান মীর শাহে আলম।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে প্রচুর নারকেল ও সুপারি গাছ রয়েছে। গাছ কাটার পর গোড়ার অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এসব জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটাতে পারে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন জনসচেতনতা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির কাজও চলছে।
বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশেষ করে পরিত্যক্ত ভাঙা টায়ার, কমোড, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, এসব স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই নাগরিকরা নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।
এস