[b]'উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ
আমরা বলিব, 'সাম্য শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ' [/b]
-নজরুল ইসলাম
১৯৩৯ সালের ৫ আগষ্ট। কোলকাতা বেকার হোষ্টেলে নবীনবরণ অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি করে আনা হয়েছে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী নলিনীরঞ্জন সরকারকে। বিশিষ্ট অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম আর আব্বাস উদ্দীন। অনুষ্ঠান শেষে কবিকে চা-পানের জন্য নিয়ে যাওয়া হলো হোস্টেলের কমনরুমে।
কিছু ছাত্র কবিকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল। তারা এক টুকরো করে কাগজ কবির সামনে ধরছে আর আবদার জানাচ্ছে কিছু লিখে দেবার জন্য। কবি একটা পেন্সিল হাতে নিলেন। তারপর একজনকে লিখে দিলেন, ‘আল্লাহু আকবর।' আর একজনকে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসলুল্লাহ।’ আবার কাউকে লিখলেন, ‘খোদাকে চেনো, খোদাকে চিনবে' ‘যারা ধৈর্যশীল খোদা তাদের সহায়।’ তাঁর এ ধরণের উক্তি থেকে মনে হয়েছিল তিনি কোন পীর-দরবেশ বা অলি আউলিয়ার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করছেন।
একদিন শিল্পী আব্বাস উদ্দিন অনেক খোঁজাখুঁজি করে নজরুলকে না পেয়ে সকালে তার বাসায় গেলেন। বাসায় গিয়ে দেখলেন নজরুল গভীর মনোযোগ দিয়ে কি যেন লিখছেন।
নজরুল ইশারায় আব্বাস উদ্দিনকে বসতে বললেন। আব্বাস উদ্দিন অনেকক্ষণ বসে থাকার পর জোহরের নামাজের সময় হলে তিনি উসখুস করতে লাগলেন। নজরুল বললেন, 'কি তাড়া আছে, যেতে হবে?' আব্বাস উদ্দিন বললেন, 'ঠিক তাড়া নেই, তবে আমার জোহরের নামাজ পড়তে হবে। আর এসেছি একটা ইসলামি গজল নেবার জন্য। গজল না নিয়ে আজ যাওয়া হচ্ছে না।' [নজরুলকে যেহেতু বাউন্ডেলে স্বভাবের কারণে পাওয়া যেত না, তাই সবাই এইভাবে লেখা আদায় করত] নামাজ পড়ার কথা শুনে নজরুল ইসলাম তাড়াতাড়ি একটি পরিস্কার চাদর তাঁর ঘরের আলমারি থেকে বের করে বিছিয়ে দিলেন।
আব্বাস উদ্দিন যথারীতি জোহেরর নামাজ শেষ করার সাথে সাথে নজরুল আব্বাস উদ্দিনের হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললেন, 'এই নাও তোমার গজল।' আব্বাস উদ্দিন বিস্ময়ের সাথে দেখলেন তার নামাজ পড়তে যে সময় লেগেছে ঠিক সেই সময়ের মধ্যে নজরুল সম্পূর্ণ একটি নতুন গজল লিখে ফেলেছেন।
গজলটি হলো:
হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ
দিলাম তোমার চরণ তলে হৃদয় জায়নামাজ।
আমি গোনাহগার বে-খবর
নামাজ পড়ার নাই অবসর
তব, চরণ-ছোওয়ার এই পাপীরে কর সরফরাজ
হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
তোমার অজুর পানি মোছ আমার পিরহান দিয়ে
আমার এই ঘর হউক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে;
যে শয়তান ফন্দিতে ভাই
খোদার ডাকার সময় না পাই
সেই শয়তান থাক দূরে (শুনে) তকবীরের আওয়াজ
হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও কাজী নজরুল ইসলাম
'উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ আমরা বলিব, 'সাম্য শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ' -নজরুল ইসলাম ১৯৩৯ সালের ৫ আগষ্ট। কোলকাতা বেকার হোষ্টেলে নবীনবরণ অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি করে আনা হয়েছে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী নলিনীরঞ্জন সরকারকে। বিশিষ্ট অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম আর আব্বাস উদ্দীন। অনুষ্ঠান শেষে কবিকে চা-পানের জন্য নিয়ে যাওয়া হলো হোস্টেলের কমনরুমে।
সেগুনবাগিচায় শিল্পকলার ছোঁয়া ফুটপাত দখলমুক্ত করে অনন্য রূপ দিলো ডিএসসিসি
ঢাকা: রাজধানীর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে তা পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। উচ্ছেদ পরবর্তী সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে সেখানে পথচারীদের বিশ্রামের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক বেঞ্চ, স্থাপন করা হয়েছে নতুন ডাস্টবিন এবং সংস্কার করা হয়েছে সীমানা প্রাচীর। শুধু তা-ই নয়, এলাকাটিকে একটি সাংস্কৃতিক আবহে মুড়িয়ে দিতে সীমানা প্রাচীরে স্থান পেয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, সত্যজিৎ রায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ জন বরোণ্য ব্যক্তিত্বের আকর্ষণীয় গ্রাফিতি।
‘JCD’ লেখা নিয়ে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, ছাত্রশিবিরের ওপর দায় চাপানোর প্রতিবাদ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলে ‘JCD’ লেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টার অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
দুই বছরেও শুরু হয়নি ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’ নির্মাণকাজ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) প্রস্তাবিত ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’-এর নির্মাণকাজ দুই বছরেও শুরু হয়নি। নাম পরিবর্তনের পর প্রাথমিক নকশা ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে পারেনি।
কাজী নজরুল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।
`১৬ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নজরুলের সাহিত্য ছিল বড় প্রেরণা'
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত ছিল বড় প্রেরণা। তাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হবে। আমরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ আয়োজন সার্থক করে তুলবো।















