সদ্য ঘোষিত বিএনপির জাতীয় কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে মহা তেলেসমাতি। বিএনপি কর্তৃক কমিটি ঘোষণার পর এমন কতগুলো বিব্রতকর ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতি তো নয়ই, ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতেও বিরল। নয়া কমিটির একজন সহসভাপতি সাথে সাথে পদত্যাগ করেন।
বহুল আলোচিত এবং বিএনপির অন্দরমহলের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত ভদ্রলোক অবশ্য বিনয় দেখিয়ে তার পদত্যাগপত্রে তাকে নিয়োগদানের জন্য দলটির নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান এবং নিজের অপারগতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নতুন কমিটি থেকে আরো দু’জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। শোনা যাচ্ছে- পদত্যাগের তালিকায় আরো কিছু বিক্ষুব্ধ নেতা ‘এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন’।
অন্য দিকে, পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা দারুণ অভিমানে, নিদারুণ বেদনায় এবং শরমে মরমে মাটির সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যারা পদ পেয়েছেন কিংবা ‘পদোন্নতি’ লাভ করেছেন, তারা পদবঞ্চিতদের ক্ষোভের কারণে যেমন উল্লাস প্রকাশ করতে পারছেন না, তেমনি দেশের অস্বস্তিকর এবং গুমোটবাঁধা রাজনীতির কারণে বঞ্চিতদের কান্নার জল রাজপথ সিক্ত করতে পারছে না।
বিএনপির সদ্য ঘোষিত জাতীয় কমিটি সম্পর্কে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিক্রিয়াও নজিরবিহীন। তারা বলেছেন- বিএনপির এবারের কমিটি হলো বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে বড় তামাশা। এই কটূক্তির জবাবে একজন বিএনপি নেতা কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘সরকারি দলের লোকজনের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, তাদের মুখে যেন বাঘা কচুর রস লেগেছে। তাদের চুলকানিমূলক কথাবার্তাই প্রমাণ করে, কমিটি সঠিক হয়েছে। নতুন কমিটির মাধ্যমে বিএনপি রাজপথে এমন সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হবে যা এর আগে কেউ কখনো দেখেনি।’ কমিটির সদস্যদের তিনি এ প্রজন্মের বাঘ উল্লেখ করে বলেন, সরকারের জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারা যদি হুঙ্কার ছাড়ে তবে ক্ষমতাসীনেরা পালানোর পথ পাবে না।
সরকারি দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়- এমন একজন বামপন্থী রাজনৈতিক নেতা রসিকতা করে বলেন, ‘বিএনপির নব্য কমিটির বাঘদের হালুম গর্জনে ঢাকার রাজপথ না কাঁপলেও অদূরভবিষ্যতে সুন্দরবন কাঁপার সম্ভাবনা রয়েছে। রামপালের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় সুন্দরবনের বাঘদের যদি কিছু একটা হয়ে যায়, তখন নব্য বাঘেরা তাড়া খেয়ে সেখানে আশ্রয় নিলে প্রাকৃতিক ভারসাম্যের এক নবদিগন্তের সূচনা হয়ে যাবে।’
বিএনপি নেতারা তাদের কমিটি নিয়ে যত কথাই বলুন না কেন অথবা বিএনপিবিরোধীরা যত ফোড়নই কাটুন না কেন, তাতে কমিটি-সংক্রান্ত জটিলতা কাটবে বলে মনে হয় না। বিএনপির আনকোরা এবং ঢাউস প্রকৃতির জাতীয় কমিটি কেবল দলের একার সমস্যা নয়- এটি আমাদের জাতীয় রাজনীতির দৈন্যের এক প্রামাণ্য দলিল। দেশে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ এবং প্রতিবেশের অভাবে মাত্র আট-নয় বছরের ব্যবধানে একটি বৃহত্তম এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল কিভাবে নিজেদের ভারে, তাপে এবং চাপে বিপর্যস্ত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য সুদূরপ্রসারী হতাশা ডেকে আনতে পারে তা বিএনপিকে দেখলে বোঝা যায়। সরকারি দল যদি বিএনপির দুর্দশা থেকে নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষার উপকরণ সংগ্রহ করে, তবে অন্য যে-কারো চেয়ে তাদেরই বেশি মঙ্গল হবে।
এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। বিএনপির নব্য কমিটিকে অনেকে ‘তৈলাক্ত’ কমিটি বলে আখ্যায়িত করেছেন। রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মীদের তুলনায় ‘তেলবাজ রাজনীতি’র ধারকবাহকেরা এবারের কমিটিতে নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে। যারা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত ছিলেন এবং যারা সংযুক্ত হয়েছেন তারা কে কাকে কতটুকু প্রভাবিত করেছেন তা রীতিমতো গবেষণার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রসিকতা করে কেউ কেউ বলছেন, তৈলবাজির রাজনীতি নিয়ে যারা গবেষণান্তে তৈল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ভাইস চ্যান্সেলর হতে চান তারা এখন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তৈলচক্রের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার পাশাপাশি, বিএনপির নতুন কমিটির গঠনপূর্ব তেলেসমাতি এবং গঠন-পরবর্তী কেরামতি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করতে পারেন।
জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর খবরা খবরের মাধ্যমে জানা গেল- এবারের কমিটিতে তারেক রহমানের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি। তবে দলীয় প্রধান তার নিজের পছন্দ এবং ব্যক্তিগত জানাশোনা থেকে একক কর্তৃত্বে কমিটি গঠন করেছেন এমনতরো অনুমান একেবারে অসম্ভব। কমিটি ঘোষণার আগে মহাসচিবের এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা তো দূরের কথা- তিনি সামান্য ওয়াকিবহাল ছিলেন বলেও তার কথাবার্তা এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজে মনে হয়নি।
বিএনপির প্রথম সারির জাতীয় নেতারাও কমিটির ব্যাপারে নাকি কিছু জানতেন না। কমিটি গঠনের আগের কয়েক মাসে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করে শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। যেসব নেতার একটু আধটু দুর্বলতা কিংবা অন্য অভ্যাস রয়েছে তাদের কাছে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা নিজেদের বায়োডাটা জমা দেয়ার আগে প্রয়োজনীয় নিবেদন করেছেন; কিন্তু কোনো শীর্ষ নেতা কোনো আবেদনকারীর ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পেরেছিলেন- এমন বদনাম এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি।
বিএনপির সভানেত্রীর অফিসের প্রভাবশালী ও পরিচিত মুখের পেছনেও অনেকে দৌড়াদৌড়ি করেছেন। কোনো কোনো পদপ্রত্যাশী এই অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, এক বয়স্কা মহিলাকে খালাম্মা সম্বোধন করে তার খুশির জন্য তোহফা পেশ করে দোয়া প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জরণ শোনা যায়; কিন্তু নিজেদের ভাগ্যের ব্যাপারে কোনো পূর্বাভাস বা সুখবরের নিশ্চয়তা পাননি কেউ। অনেকে গভীর রাত অবধি গুলশান-বারিধারার লেকের পাড়, শোনা যায় হোটেল-মোটেল, রেস্তরাঁ এবং পাঁচতারকা হোটেলের বড় বড় খাশকামরায় নানা রকম চেষ্টা তদবির করেছেন।
অনেকে লন্ডন-আমেরিকা-দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব ভ্রমণ করে বেদনা লাঘবের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত আশ্বাস পাননি। ফলে আগস্ট মাসের ৬ তারিখ রাতে যখন দলীয় মহাসচিব ৫০২ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির পাশাপাশি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করলেন, তখন দেশের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে প্রথমে কানাঘুষা এবং তারপর হই চই আরম্ভ করে দিলেন।
কমিটি ঘোষণা করার পর দেখা গেল অনেক ক্ষেত্রে কেমন যেন ওলটপালট হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ঐতিহ্য, এই ধারার রাজনীতিবিদদের মান-সম্মান এবং আশা-আকাক্সক্ষা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। সিনিয়র অনেক নেতা যেমন পদ পাওয়ার পরও নিজেদের অসন্তোষ চেপে রাখতে পারেননি, তেমনি পদবঞ্চিত পরীক্ষিত নেতারা অপমান, ক্ষোভ এবং বেদনা লুকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। কমিটিতে নেতাদের শ্রেণিবিন্যাস, অন্তর্ভুক্তি, বাদ পড়া এবং পদপদবির বাহার বিএনপির ইতিহাসের সাথে একেবারে বেমানান। কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটাই দৃষ্টিকটু হয়েছে যে, নেত্রী চাইলেও তার সব নেতাকে দলীয় পদপদবি অনুযায়ী এক টেবিলে বসাতে পারবেন না। নতুন কমিটির অনেক পদাধিকারীর সাথে পরীক্ষিত নেতারা একসাথে বসার চেয়ে রাজনীতি থেকে নিজেকে লুকিয়ে বা গুটিয়ে রাখাটাকেই বেশি পছন্দ করবেন।
পত্রিকার খবর অনুযায়ী জানতে পারলাম, বিএনপির বর্তমান নীতিনির্ধারণী নেতারা নতুন কমিটিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ দূর করতে বর্তমানের ৫০২ সদস্যের সাথে আরো ৩০০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছেন। এর বাইরে আওয়ামী লীগের আদলে অনেক সাব কমিটি গঠনের মাধ্যমে আরো হাজারখানেক নেতাকর্মীকে দলটির কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই খবরে দলের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন হুড়োহুড়ি। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা বিএনপিকে সমালোচনার জন্য নতুন শব্দমালা আবিষ্কারের জন্য শত শত ড্রাম নস্যি আমদানি করতে নতুন আমদানিকারকের সন্ধান শুরু করে দিয়েছেন। তাদের আবিষ্কারের বিষয় হলো- ৫০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিকে যদি শতাব্দীর সেরা তামাশা বলা হয়, তবে ৮০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিকে কী বলা হবে?
বিএনপির বর্তমান কমিটির কার্যকারণ সম্পর্কে যদি ব্যক্তিগত মতামত জিজ্ঞাসা করা হয় তবে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, কমিটি গঠনের সাথে সম্পৃক্ত নেতারা দলের নেতাকর্মীদের হৃদস্পন্দন বুঝতে পারেননি অথবা বোঝার চেষ্টা করেননি। তারা ২০০৬ সালে পুরো জাতির হৃদয়ের আওয়াজকে বর্তমান সরকারের চেয়েও অধিক রূঢ়তা এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সাথে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তেমনি ১/১১, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচন, ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক, আওয়ামী সরকারের সাথে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বনের কোনো চেষ্টা করেননি। তাদের একরোখা মনোভাব এবং জানালা- দরজা বন্ধ করে অন্ধকার ঘরে বসে থেকে নিজের ওপর অভিমান করে নিজের শরীর ও মনের ওপর নীপিড়ন চালানোর প্রবৃত্তি দলকে দিনকে দিন দুর্বল থেকে দুর্বলতর করে দিচ্ছে।
নতুন কমিটি সম্পর্কে যদি বিএনপিকে প্রশ্ন করা হয়- কী এমন পরিবর্তন করা হলো যার কারণে দেশবাসী দলটি সম্পর্কে আগে নেতিবাচক ধারণা, বদনাম ও অভিযোগগুলো বাদ দিয়ে, তাদের ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপির তুলনায় শ্রেষ্ঠতর মনে করবে? অথবা নতুন কমিটিতে এমন কতজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের দেশবাসী আদর্শ মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করবে? আমার বিশ্বাসÑ বিএনপি প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে পারবে না। সাধারণ নেতাকর্মীদের এবং দেশবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হলো দলটির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কর্তাব্যক্তিদের একাংশ আসলে বিএনপির শক্তি, সম্ভাবনা ও দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন নন।
জনমনে ধারণা, বিএনপি কোনো দিন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বাম দল কিংবা জামায়াতের মতো রাজনীতি করতে পারবে না এবং তাদের মতো করে সংগঠনও চালাতে পারবে না। বিএনপিকে চলতে হবে তাদের নিজেদের মতো করে। তাদের প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতা লাভ, কর্মী সংগ্রহ, নেতা নির্বাচন, ক্ষমতায় যাওয়া- সব কিছুরই ধারাবাহিক ইতিহাস রয়েছে। বর্তমান বিএনপির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো, তারা নিজেদের সফলতার কৌশল, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে স্মরণ করতে চাচ্ছে না।
বিশাল আকৃতির নব্য কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দলটি তার অনেক দুর্বলতা প্রকাশ করে দিলো। প্রথমত, বিএনপি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তাদের দলে প্রকাশ্যে কেউ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না, কেউ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায় নেয় না এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ক্ষোভের মুখে পরিবর্তন করা সম্ভব। কেন্দ্রীয় কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন লাভের জন্য অথবা কোনো পদ থেকে ছিটকে পড়ার জন্য কারণ না থাকলেও চলে অথবা কারণ না দর্শালেও চলে। নতুন কমিটিতে রাজনৈতিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস; দলের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষা, শিক্ষা-দীক্ষা, মানমর্যাদা ইত্যাদির পরিবর্তে অন্য পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য মুখ্যরূপে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছেন।
বিএনপির কমিটি নিয়ে এবার সরকারি দলের গাত্রদাহের কারণটি বলে আজকের প্রসঙ্গ শেষ করব। ক্ষমতায় যাওয়ার উদগ্রবাসনা, ক্ষমতায় টিকে থাকার অমানবিক প্রচেষ্টা, রাষ্ট্রশক্তিকে দলীয় শক্তি হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন থেকে দূরে থেকে দলীয়করণ, পরিবার প্রথা চালু করা ইত্যাদি বিষয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরস্পরবিরোধী মেরুতে অবস্থান করা সত্ত্বেও চমৎকার ঐকমত্য পোষণ করে থাকে। তারা কোনো ভালো কাজে একে অপরকে অনুসরণ না করলেও একে অপরের মন্দকাজ, ভুলভ্রান্তি এবং কুকর্মগুলো দ্বিগুণ, তিন গুণ কিংবা দশ গুণ উৎসাহ নিয়ে করে থাকে বলেই প্রতীয়মান। গত ৪০ বছরের ইতিহাসে একটি ঘটনাও দেখানো যাবে না যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল এবং নিয়োগবাণিজ্য, টেন্ডার, দলীয়করণ, দখল, মামলা-হামলা ইত্যাদির যে রেকর্ড করেছিল, তা পরবর্তী সময়ে বিএনপির শাসনামলেও করা হয়নি। একইভাবে বিএনপির শাসনামলে কৃত অপকর্মগুলো পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার করেনি- এমন ‘বদনাম’ কেউ দিতে পারবে না।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে যা হচ্ছে তার দায় যেমন অতীতের ক্ষমতাসীনেরা এড়াতে পারবেন না- তেমনি ভবিষ্যতে যা হবে তার সম্ভাবনা থেকেও বর্তমানের লোকজন রেহাই পাবেন না। এমনকি বিএনপির ঢাউস আকৃতির কমিটির বিরূপ ক্রিয়া থেকে আওয়ামী লীগের আগামী দিনের কমিটিও রক্ষা পাবে না। তাদেরও ঢাউস আকৃতির কমিটি দিতে হবে। প্রশ্ন হলো- এত বড় একটি কমিটি পরিচালনার জন্য বিএনপির কি কোনো হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা আছে? আর সেই বাঁশিওয়ালা তার মোহন বাঁশির সুরে দেশের সব অন্যায়-অত্যাচার, অনিয়ম-অনাচার ইত্যাদি কুকর্ম টানতে টানতে অন্তর্জলি যাত্রায় নিয়ে যাবেন, নাকি নিজেরাই সেই যাত্রার দুর্ভাগা যাত্রীতে পরিণত হবেন, তা দেখার জন্য আমাদের সবাইকে আরো কিছু দিন হয়তো রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতে হবে।
(বি.দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)
এসএ





