ফ্লাইওভার ফ্লাইওভার খেলায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে যাচ্ছে ছাত্র-যুব-জনতার রাজনীতি-শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-অর্থনীতি ও সমাজনীতির সুন্দর আগামী। এই আগামীতে তারা রাজনীতির নামে মৃন্ময় অন্ধকার আসার জন্য দায়ী থাকবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-ই।
কেননা, নতুন প্রজন্মের প্রতিটি প্রতিনিধি জেনে গেছে যে, জ্যাম কমানোর নামে মনে মনে মূলত যুবলীগ-ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদেরকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার রাস্তাই তৈরি করে দিয়েছে বর্তমান সরকার।
যে কারনে মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভারের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় নির্মিত হচ্ছে। জমে উঠছে অন্ধকারের কথা।
কেননা, বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে যে, আমজনতার সুবিধার কথা বলা হলেও ফ্লাইওভারের সুবিধাভোগী উচ্চবিত্ত শ্রেণী। কারন হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রাইভেটকারের তুলনায় গণপরিবহণের ব্যবহার কম এই ফ্লাইওভার দিয়ে।
অন্যদিকে ক্রমশ সমস্যার জাল বুনতে বুনতে তৈরি হয়ে এগিয়ে আসছে ফ্লাইওভার রাজত্ব।
সত্য কথা বলতে গেলে অনেক কথাই উঠে আসবে। তবু বলতেই হচ্ছে যে, জনগনের কথা খেয়াল করেছিলেন কেবলমাত্র সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তাকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর রাজধানী ঢাকার বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে যানজট অন্যতম নাগরিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসলেও কোন লাভ হয়নি; বরং ক্ষতি টেনে নিয়ে এসেছে যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখন সেই সরকারের চ্যালা-চামুন্ডা, মন্ত্রী-এমপি-আমলা সহ সংশ্লিষ্ট প্রায় প্রতিটি মানুষ সহসাই নেমে গেছেন নিজের আখের গোছানোর বড় কাজটি। আর এই কাজটি করতে তারা রাজনীতিকে আকড়ে রেখেছে কেবল লোভাতুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য।
সমস্যা নিরসনে নানারকম খেলা খেললেও ভোগান্তি কমানোর জন্য নিবেদিত থাকেনি কেউ। বরং বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উদ্যোগে নেয়ার নামে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছে পরিণত হওয়ার চর্চাটা চলেছে নিয়ম করেই। যে কারনে কোন পদক্ষেপ-ই কার্যকর ফলাফল বয়ে আনতে পারেনি।
বরং পরিকল্পনা ছাড়াই ২০০০ সালের পর রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করে চলা বিএনপিচক্রের জোটবদ্ধ সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকায় যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণের হিড়িক পড়ে যায়।
এরই ফলশ্রুতিতে গত ১৬ বছরে বড় বড় চারটিসহ বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মিত হয়। কিন্তু এসব ফ্লাইওভারের উপযোগিতা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
রামপুরা ব্রিজের সন্নিকটে ইউলুপ তৈরি করায় এবং এর কার্যকারিতা চমৎকার হওয়ায় এখন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই ফ্লাইওভারের মতো মেগা প্রজেক্ট বাদ দিয়ে যানজট চিহ্নিত স্থানগুলোতে বিশেষ করে মোড়গুলোতে ইউলুপ তৈরির কথা বলছে।
অবশ্য তাদের ভাষ্য হলো- রাজধানীতে কেবল দুটি ফ্লাইওভার (কুড়িল এবং বনানী ফ্লাইওভার) শতভাগ উপকারিতা দিচ্ছে। এই দুটি ফ্লাইওভারের নকশাই বুয়েট থেকে করে দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মহাখালি এবং যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কার্যকারিতা ৫০ ভাগও নেই। কারণ সাধারণ মানুষের একটি বৃহৎ অংশের কোনো উপকারেই লাগছে না এই ফ্লাইওভার দুটি। মহাখালি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মূল সড়কের অংশে মহাখালি ফ্লাইওভারে ওঠার কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে গণপরিবহণ থেকে শুরু করে সিংহভাগ যানবাহন চলছে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়েই।
অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে কিংবা সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে ওঠার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে এখানেও গণপরিবহণ থেকে দূরপাল্লার বাহনগুলো চলছে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে।
যে কারণে এই দুটি ফ্লাইওভারে কেবল প্রাইভেটকারের আধিক্য দেখা যায়। এ কারণে এসব মোড় ও টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় ইউলুপ তৈরি করে দেয়া গেলে যানজট অনেকটাই কমে যাবে। আর এতে অর্থেরও সাশ্রয় ঘটবে বলে আমার বিশ্বাস। তাছাড়া এই ফ্লাইওভার ফ্লাইওভার খেলার কারনে প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী ও সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি-সদস্যদেরকে বোকা বানানোর রাস্তা কিছুটা হলেও সংকির্ণ হবে বলেই ধারণা করছি।
আমার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সূত্র ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের পাশাপাশি সারা ঢাকায় আসা যাওয়া চলে প্রায় প্রতিদিন-ই। আর তার সূত্র ধরে যাত্রাবাড়ি ও মহাখালি ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। যতবার এসেছি বা গিয়েছি, ততবার-ই কার্যকরহীন মনে হয়েছে এই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফ্লাইওভারগুলোকে।
বিশেষ করে যদি বলি, তাহলে বলা যায়, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে টিকাটুলি, গোলাপবাগ এবং দোলাইরপাড় এলাকায় ফ্লাইওভারে ওঠার সংযোগ সড়ক রাখা হয়েছে। যে কারণে সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাহনগুলো ফ্লাইওভারে উঠতে পারছে না। একই রকম অবস্থা গণপরিবহণের ক্ষেত্রেও। টিকাটুলি হয়ে যেসব গণপরিবহণ যাত্রাবাড়ী অংশে ঢুকছে তাদের যেতে হচ্ছে দয়াগঞ্জ মোড় ঘুরে। কারণ ফ্লাইওভারে উঠলেও এসব বাহন যাত্রাবাড়ীতে নামতে পারছে না।
একই রকম অবস্থা মহাখালি ফ্লাইওভারেও। এখানে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে ওঠার পর কুর্মিটোলার জাহাঙ্গীর গেটের কাছে নেমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে বাহনগুলোকে যেতে হয়। ফলে গণপরিবহণের ওঠার কোনো সুযোগ থাকছে না। কারণ অধিকাংশ গণপরিবহণ বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি হয়ে মহাখালি এবং গুলশান-১ থেকে ছেড়ে এসে মহাখালি হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত চলাচল করে। যে কারণে এসব বাহনের মহাখালি ফ্লাইওভারে ওঠার কোনো সুযোগই থাকছে না।
অন্যদিকে কেবল প্রাইভেটকারগুলো নির্বিঘ্নে এই দুটি ফ্লাইওভারে উঠছে। এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, জনগনের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে এই ফ্লাইওভারগুলো।
অথচ সরকার বলছে, উন্নয়নের জোয়ার চলছে-জনগন ভালো আছে। সত্যি-ই কি তাই? যদি তাই হবে, তাহলে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বর্তমানে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সরকারী চাকুরীতে যোগ দেয়া জনৈক ব্যক্তি কেন লিখলেন যে, জনগনকে বোকা বানানো হচ্ছে, বলা হচ্ছে উন্নয়ন; অথচ ভাঙা রাস্তা দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে আমার গাড়িটি ৩ ঘন্টার রাস্তা ৯ ঘন্টায় পার হয়ে কেবলমাত্র ঢাকায় পৌছেছে। এই যদি হয় উন্নয়ন; তাহলে তা আমি সহ আমজনতা চাই না।
এই না চাওয়ার দলে আমি এবং আমরা আছি বলে লিখছি-প্রতিবাদ করছি- সেভ দ্য রোডের মত অবিরত এগিয়ে চলা লোভ মোহহীন নিস্বার্থ- স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হই। যারা মূলধারার লেখক তাদের-ই একজন নগণ্য সদস্য হিসেবে বাংলাদেশকে-বাংলাদেশের রাজধানীকে এবং আমাদের মানুষকে ভালোবেসে বলতে চাই যে, জনতার কথা বলে এসব ফ্লাইওভার তৈরি করা হলেও কার্যত তাদেরকে উপেক্ষা করে কেবলমাত্র তথাকথিত বিত্তশালীদের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে; মূলত জ্যাম মুক্ত নগরী গড়ার নামে উচ্চবিত্ত ও নিন্মবিত্তদের মাঝে দেয়াল তৈরিকারী ফ্লাইওভারের সুবিধা ভোগ করছে কেবল উচ্চবিত্ত শ্রেণীভুক্ত মানুষের একটি বড় অংশ। কারণ সাধারণ মানুষের বাহন হলো গণপরিবহণ। কিন্তু এসব ফ্লাইওভারে যদি কোনো গণপরিবহণকে উঠতে হয় তবে সেই সব বাহনকে উঠতে হবে যাত্রী রেখেই।
যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের যাত্রাবাড়ী মোড় অংশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। অথচ বাহন কিন্তু সব ঐ মোড়েই থামছে, অবস্থান করছে এবং ছেড়ে আসছে। ফ্লাইওভারের একটি অংশ থেকে উঠে আরেক অংশে নেমে যেতে হবে।
অথচ সাধারণ মানুষ যেসব স্থান থেকে বাহনে উঠে সেসব স্থানে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে ফ্লাইওভারে উঠলে গণপরিবহণ যাত্রী নিতে পারছে না কিংবা নামাতেও পারছে না।
এ কারণে কেবল প্রাইভেটকারগুলো শতভাগ এসব ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারছে আর আমরা বাহবা দিয়ে যাচ্ছি। এই বাহবার রাস্তায় আর এগিয়ে যেতে চায় না বাংলাদেশ-বাংলাদেশের মানুষ।
যে কারনে নতুন প্রজন্মের পক্ষ থেকে ফ্লাইওভার ফ্লাইওভার খেলা বন্ধ করে হং কং অথবা ওয়াসিংটন ডিসির মত করে যে কোন সমস্যায় আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।
একই সাথে তাদের মত করে পরিকল্পনা করে ধীরে ধীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ-সড়ক প্রশস্থ করণ ও লেন বাড়ানোর আহবান জানাচ্ছি।
সেই সাথে, সেতুমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই- জনগন কিন্তু আর আগের মত বোকা নেই; যেমন বোকা ছিলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকরার আগে অথবা পরে।
তারা জেনে গেছে যে, জনগনের মাথায় কাঁঠাল রেখেই এগিয়ে যাওয়ার প্রানন্তকর চেষ্টায় অগ্রসর হচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-শ্রমিকলীগ- স্বেচ্ছাসেবকলী-আওয়ামী লীগ আর জাসদ-ওয়াকার্স পার্টির রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করে চলা প্রতারকচক্র।
যাদের মুখে এক কাজে আরেক হওয়ার কারনে নির্মম মাশুল দিচ্ছে আমজনতা। সংশয়ের আক্রমনে নিয়মিতই তারা মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভারের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়ে পতিত হচ্ছে। পাশাপাশি সমস্যার জালে আবদ্ধ হওয়ার গল্প জানতে পারছে এভাবে- মালিবাগ অংশে আবুল হোটেল থেকে ফ্লাইওভার শুরু হয়ে শান্তি নগর পার হয়ে কাকরাইলে এর একটি অংশ শেষ হয়েছে। আরেকটি অংশ শেষ হয়েছে রাজারবাগ অংশে।
কিন্তু মালিবাগ রেলগেট, মৌচাক মার্কেট, মালিবাগ মোড় এবং শান্তি নগর থেকে যেসব সাধারণ মানুষ গণপরিবহণে উঠছে তারা ভবিষ্যতে কিভাবে যাতায়াত করবে এর কোনো সঠিক দিক নির্দেশনা নেই। আবার মালিবাগ রেলগেট হয়ে খিলগাঁও পর্যন্ত সড়কে এই ফ্লাইওভারের কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে যেসব বাহন উত্তরা, কুড়িল, নতুন বাজার, বাড্ডা, রামপুরা থেকে ছেড়ে এসে খিলগাঁও দিয়ে যাবে সেসব বাহনকে যেতে হবে মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভারের নিচ দিয়েই।
এভাবে আর কতদিন নাগরিক কষ্টের জন্ম দিয়ে যাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার; আর কতদিন নতুন নতুন সমস্যায় আক্রান্ত হবে বাংলাদেশ? প্রশ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে প্রতিটি সচেতন নাগরিকের পক্ষ থেকে আবারো বলবো- বাংলাদেশকে-বাংলাদেশের মানুষকে কষ্টের দিকে ঠেলে না দিয়ে এগিয়ে আসুন-ভালোবাসুন নিবেদিত থাকুন নতুন প্রজন্মের জন্য-নাগরিকদের জন্য। তা না হলে অপেক্ষা করবে ভয়াবহ ভবিষ্যত। যে ভবিষ্যতে তাদের যতটুকু কষ্ট হবে, আপনাদেরও কম হবে না।
(বি.দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)
এসএম





