তুরস্কের ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ সেনা ক্যু পরবর্তীতে সরকার যখন বিদ্রোহের সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতিটি সেক্টর থেকে চিহিৃত করে আটক ও বিচার প্রক্রিয়ায় নির্ঘুম রাত অতিবাহিত করছে, ঠিক তখন তুরস্কের অর্থনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থার নেতিবাচক সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে দেশের অর্থনীতিবিদদের।

তবে বসে নেই সরকার ও অর্থনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট কেউই। একের পর এক বৈঠকের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে দৌড় ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন। সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে সেনা আঘাতের পর এখন আঘাত করা হচ্ছে দেশের অর্থনীতিকে। কেউ কেউ এটাকে দ্বিতীয় ক্যু হিসেবে উল্লেখ করছেন।

তুরস্কের অন্যতম অনলাইন সংবাদ পোর্টাল হাবেরলেরডটকম এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন মতে, আন্তার্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা S&P ( standard & poor ) তুরস্কের মুদ্রার মান নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ থাকার কথা উল্লেখ করে BB+থেকে কমিয়ে BB- করেছে।

এর দু দিন পর FITCH তুরস্কের মুদ্রার মান কমিয়ে BBB থেকে BBB- হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তুরস্কের অর্থনীতিবিদরা যাকে দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় ধরণের আঘাত হিসেবে দেখছেন।

গত ২১ জুলাই S&P এর সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আজ FITCH তাদের সিদ্ধান্ত জানালো।

FITCH আরো বলেছে যে, দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের জন্য তুরস্ক এখন ঝুকিপূর্ণ ক্ষেত্র। রিউটারস এর সংবাদ মতে, বিশেষজ্ঞরা তুরস্কের সাথে সংশ্লিষ্ট যে কোন দীর্ঘ মেয়াদী বা বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দিয়েছেন।

এর আগে আমেরিকান ক্রেডিট রেটিং সংস্থা MOODY একই কারণ দেখিয়ে তুরস্কের মুদ্রার মাণ এক স্তর কমানোর সতর্কতা দিয়েছিল।

G-20 এর সম্মেলনে ডেপুটি রাষ্ট্রপতি G-20 উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের বিশটি দেশের সংগঠন G-20 এর ২৩-২৪ জুলাইয়ের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে চীনে গিয়ে তুরস্কের ডেপুটি রাষ্ট্রপতি মেহমেত শিমসেক বলেছেন, তুরস্কের মৌলিক গণতান্ত্রিক ণীতির চলমান প্রক্রিয়ায় G-20 নাক গলাবেনা বলে জানিয়েছে। তুরস্কে তেমন কোন পরিবর্তন সূচিত হয়নি বলে তাদেরকে জানিয়েছেন।

শেমসেক ব্যর্থ ক্যু এর ফলে দেশের মুদ্রাবাজার ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক কোন প্রভাব পড়বেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগেও স্বল্প ও সীমিত আকারে কিছু সমস্যা হয়েছিল কিন্ত দেশের অর্থনীতিকে তা প্রভাবিত করতে পারেনি।

এরদোয়ানের তীব্র প্রতিক্রিয়া:- এদিকে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রেজেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান আন্তর্জাতিক এ সংস্থাগুলোর এমন সিদ্ধান্তের কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, “তুরস্কের সাথে তোমাদের কি সম্পর্ক রয়েছে? তুরস্ক তোমাদের সংস্থাদের সদস্যও নয়। তোমরা এর আগেও এরকম করেছ। তোমাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। তোমরা অর্থনৈতিক সংস্থা হয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছ।”

এর আগে গতকাল জাতীয় সংসদের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে এরদোয়ান বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করবেন না। আমরা ছোট বড় সব বিনিয়োগকারীদের সাথে আছি। অর্থনীতি কলাপ্স করবেনা, এখন ব্যবস্থাপনায় সরকার আছে।

তিনি আরেও বলেন, অর্থনীতিতে নতুন করে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার কিছু নেই।” এখন অর্থনীতিতে কোন সমস্যা নেই। তাছাড়া আমি ফাইনেন্স সেক্টরগুলোকে বলব, আপনারা সুদের হার কমান।

S & P ও MOODY কে উদ্দেশ্য করে এরদোয়ান বলেন, আপনারা আপনাদের সীমা বুঝুন। তুরস্কের শত্রুদের থেকে তথ্য নিয়ে তাদের মত কথা বলবেন না। মনে রাখা উচিত, আমরা আপনাদের সদস্য নই।

এর আগেও এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বহু ঘাত প্রতিঘাতের পর তুরস্কের অর্থনীতি আজকের এ পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে। আমাদের অর্থনীতির জন্য আমরা, আমরাই যথেষ্ট। তবে এখন থেকে আমাদের অনেক বেশী কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, দেশটির দক্ষিন পূর্বাঞ্চলে পিকেকে সন্ত্রাসীদের সাথে সরকারের দীর্ঘ দিন ধরে যুদ্ধ চলে আসছে।

তাছাড়া নিকট অতীতে রাজধানী আংকারায় বোমা হামলা, ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্টসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত বিরতিতে সন্ত্রাসী হামলার পরও শক্ত ভিত্তির উপর দাড়িয়েছিল তুরস্কের অর্থনীতি। তুরস্কের ইতিহাসের ভয়াবহতম ব্যর্থ ক্যু পরবর্তীতে এখন জরুরী অবস্থা চলতে থাকা অবস্থায় দেশটির অর্থনীতি কতটুকু স্থিতিশীল পরিস্থিতির উপর দাড়িয়ে থাকতে পারবে তা সময়ই বলে দেবে।

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডির সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

এসএম