বিভিন্ন সময় বিচ্ছিন্নভাবে পুরোহিত, বিদেশী নাগরিক, ইমাম, মোয়াজ্জিন হত্যা হওয়ার সাথে সাথে তদন্ত না করে জঙ্গিবাদের তকমা বিরোধী দলের উপর চাপিয়ে দেওয়ার কারণে প্রকৃত জঙ্গি ও সন্ত্রাসিরা বরাবরই ধরা-ছোঁয়ার বাহিরে রয়ে গেছে। আর সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গোটা বাংলাদেশকে স্তব্দ করে দিয়েছে জঙ্গিরা, এমনটাই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা।

রবিবার (০৩ জুলাই) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জনাব ঈসা বলেন, নৈরাজ্য ও দুঃশাসনে দম আটকে যাচ্ছে। সুখবর বলতে শুধু রডের পরিবর্তে বাঁশ আর খুন। গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে এবং রাষ্ট্রিয়ভাবে গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হত্যাকরার কারণে দেশে যে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে বিপদগামীরা।

শুক্রবার (১ তারিখ) রাতে গুলশানে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে এটি প্রথম ঘটনা। ইতিপূর্বে এমন নৃশংস ও নির্দয় ঘটনা আগে কেউ ঘটাতে সাহস পায়নি। সেখানে সর্বমোট ২৮জনের লাশের মধ্যে দিয়ে ঘটনার অবসান ঘটলেও রক্তের দাগ ও অস্থিরতা আজও শেষ হয়নি।

তিনি বলেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বস্তি ও শান্তি নেই। ঈদের ৩ দিন আগে যে ভাবে গুলশানে নৃশংস ও নির্মম ভাবে দেশি-বিদেশী নিরাপরাদ ব্যাক্তিদেরকে ধর্মের নামে হত্যা করেছে। তারা মূলত ইসলামেরই শত্রু। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ও ইসলামে এই ধরনের ন্যাক্কার জনক হত্যাকাণ্ডের কোন অনুমতি নেই অথচ বিপদগামী কিছু মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করে সারা পৃথিবীকে অস্থির করে তুলেছে।

বিবৃতিতে এসব দুর্বৃত্তদের ব্যাপারে বিশ্ববাসীকে এক হবারও আহবান জানান তিনি।

এছাড়াও বিবৃতিতে তিনি ঈদের আগে যারা রাষ্ট্রকতৃক গুম হয়েছে তাদের পরিবারের কাছে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ারও আহবান জানান।

সবশেষে ৮২ বছরের প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান , প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ যারা কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তাদেরকে ঈদের আগে মুক্তির দাবি করেন এবং দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।

এমআইএস