প্রথমে প্রতিদিনের একটা নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা দিয়ে শুরু করি যেমন আপনার ছোট আদরের সোনামণিটার সকাল ৮ টায় ক্লাস। যথারিতী আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠলেন তার জন্য খাবার থেকে শুরু করে সবকিছু তৈরি করে আপনি টেবিলে বসে আছেন। কিন্তু তাকে ঘুম থেকে ডাকলেননা। বিষয়টা কেমন হবে। বাংলাদেশের অবস্থাও ঠিক সেই রকম চিন্তা করা যায়। অভাবের দেশ হিসেবে আমাদের অনেক কিছুর অভার থাকতে পারে, কিন্তু যা আছে আমাদের তার কতটুকু সদ্ব্যবহার করছি তার উপর নির্ভর করবে আসলে আমাদের কোনটা প্রয়োজন সম্পদ নাকি সচেতনতা।
আজকে সিটি কর্পোরেশন, ডাস্টবিন, আর আমাদের সম্পর্ক হচ্ছে মা, স্কূলে যাওয়া, আর ঘুমন্ত সোনামণির মতো। সবকিছু তৈরি কিন্তু আমি এখনও ঘুম থেকে উঠি নাই। ডাস্টবিন তৈরি কিন্তু আমাদের ময়লা রাখার সুযোগ হয় না।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহর বর্তমান বিশ্বে বসবাসের অনুপযোগী একটা রাজধানী শহর। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দুই ভাগ হওয়ার পরে এই শহরটাকে বসবাসের উপযোগী করার লক্ষ্যে অনেকগুলো পরিক্ল্পনা নেওয়া হয়। তার মধ্যে অন্যতম পরিকল্পনা হচ্ছে ঢাকায় রাস্তার ধারে ফুলের টবের মতো গেথে রাখা ঝুলন্ত ডাস্টবিন। মাঝে মধ্যে ডাস্টবিনের দিকে তাকালে মনে হয় এটা একটা ঝুলন্ত ডাস্টবিনের প্রদর্শন (এক্সিবিশন) চলছে। তাই যত সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা যায় তত ভালো। ফলে এত সুন্দর দেখায় যার কারণে কারও ব্যবহার করতে মন চায় না।
আসলে আমাদের সমস্যা কোন জায়গায় সম্পদের অভার নাকি সচেতনতায়। পৃথিবীতে এমনও দেশ আছে যে দেশের মানুষগুলো অবসর সময় কাটায় রাস্তার ময়লা পরিস্কার করে। আমাদের ময়লা পরিস্কার করতে বলা হয় নি, বলা হয়েছে শুধু নির্ধারিত জায়গায় ময়লা ফেলতে। তাতেও আমাদের অপারগতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমাদের সচেতনার অভাব। প্রায় ৩০০০ ডাস্টবিন লাগানোর কথা তার দ্বিগুন যদি লাগানো হয় তাতেও কোন লাভ নেই যদি আমাদের সচেতনতা জাগ্রত না হয়।
সচেতনার অভাবের পাশাপাশি আরেকটা অভাব সম্প্রতি প্রকট আকার ধারণ করে আর তা হলো ডাস্টবিন চুরি করা। যা নিয়ে স্বয়ং সিটি কর্পোরেশন মেয়র খুবই চিন্তিত। অনেক জায়গায় দেখা যায় রাস্তার ধারে ১০টি ডাস্টবিনের ভেতর ৫টি হাওয়া। এটাকে সচেতনার পাশাপাশি দেশের প্রতি ভালবাসার অভাবও বলা যেতে পারে। এতো অভাবের মাঝে নিজেদের গড়ে তোলার প্রত্যয়ে যারা এই যান্ত্রিক শহরে বাস করে তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে যদি এই সচেতনতা বাড়ানো না যায়।
জেড





