ঘর থেকে বের হলে নিশ্চিন্তে অফিস বা ব্যবসার কাজ করে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারবে কি না সেটাও মানুষ জানে না। ঈদের ছুটিতে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করে সারা দেশে চার দিনে শতাধিকেরও বেশি মানুষ মারা গেছে; আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিকের ওপর।
এরা কি জানত কোরবানির ঈদে বাড়িতে যাওয়া এবং আসার পথে তাদের প্রাণহানি ঘটবে, পাঁচ শতাধিক মানুষকে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাতে হবে।
আমরা এ ধরনের ঘটনা ছাড়াও আরো অনেক কিছু জানি না। ধরুন, বিশজগতে যিনি নিয়ন্তা, তিনিই সব কিছু জানেন ও বোঝেন। সর্বজ্ঞানী বলতে একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কেউ এই বিশেষণে আখ্যায়িত হতে পারে না। আমরা অনেক কিছুই পারি না। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ক্ষুদ্র এ ভূখণ্ডটিও আমরা সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে পারিনি বিগত ৪৫ বছরে।
এই ব্যর্থতা আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এই ঢাকা নগরীকেও আমরা সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছি। এ নগরী একটি পরিকল্পনাহীন মেগাসিটি বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। আমাদের এত বড় বড় পণ্ডিত মানুষ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর শত শত ছেলেমেয়ে বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে। অতীতের কিছু অভিজ্ঞ মানুষ এখনো বেঁচে আছেন। অথচ ৪৫ বছরেও ঢাকা মহানগরীর করুণ দশার রহস্য উদঘাটনে আমরা ব্যর্থ।
এপ্রিল মাসে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে ২১ দিন অবস্থান করে যা বুঝলাম, মনে হলো বিগত ৪৫ বছরে তারা অনেক এগিয়েছে, কলকাতা আর ঢাকার ব্যবধান এখন অনেক। ’৭১-এর আগে কলকাতা ও করাচি শহর ছিল বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা শহর। পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে খবরও বেরিয়েছিল। কিন্তু আজ করাচি ও কলকাতা ঢাকার চেয়ে অনেক এগিয়ে, বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে।
কলকাতার ভিক্টোরিয়া পার্ক সাজানো- গোছানো। মনে হচ্ছিল, কলকাতার পার্কের ঘাসগুলো এইমাত্র গজিয়েছে। গড়ের মাঠ, রেসকোর্স, মোহাম্মদ আলী পার্ক, চায়না টাউন, গোল্ডেন পার্ক, মার্বেল প্যালেস, রাইটার্স বিল্ডিং, বিবেকানন্দ পার্ক, ইডেন পার্ক, দেশবন্ধু পার্ক, দেশপ্রিয় পার্ক, ফোর্ট রেডিসন রিসোর্ট, গোল্ডেন পার্ক, চৌরঙ্গী, সেন্ট্রাল এভিনিউ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, গঙ্গা নদী এবং ঝুলন্ত হাওড়া ব্রিজ এবং ডালহৌসি স্কোয়ার- সব কিছুই সাজানো-গোছানো। দুঃখ হয় ঢাকার পার্কগুলো দেখলে। ইদানীং পার্কগুলো মাদকসেবী, বখাটে ও ভাসমান পতিতাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের স্থানে রূপ নিয়েছে। ঢাকার ঐতিহাসিক স্থানগুলো এখন জরাজীর্ণ।
এত বুদ্ধিজীবী, সুনাগরিক ও জ্ঞানদানকারী মানুষের সমাগম ঢাকা মহানগরীতে; অথচ মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন অনেকটা। ঢাকা নগরী যে বিশ্বের বাসযোগ্য রাজধানীর তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করে বসে আছে- সেদিকে কারো নজর আছে বলে মনে হয় না। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত বায়ুর শহর ঢাকা। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের ৪৮টি দেশের মধ্যে নদীর পানি বেশি দূষিত এখানে। ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় দৈনিকে এ খবর বেরিয়েছে। মান্যবর বিজ্ঞানীরা এসব নিয়ে একটু ভাবুন।
আজকাল অনেকের মুখে শুনি, ছেলেমেয়ে বিদেশে থাকে- তারাই বলছে, ‘বাংলাদেশ কত নোংরা। আব্বা-আম্মার সাথে নেটে কথা বলে জানায়, বাংলাদেশ ত্যাগ করো। এ দেশে থাকা যাবে না। অনেক মানুষ।’ তাই রাজনৈতিক ব্যবসা যারা করেন, মন্ত্রী-মিনিস্টার থেকে শুরু করে অপজিশনে যারা আছেন, তাদের ছেলে-সন্তানেরা বিদেশে। পলিটিক্যাল ক্রাইসিস দেখা দিলে এ দেশের রাজনীতিকেরা সেসব দেশে নিরাপদে আশ্রয় নেন। অনেকেরই স্থায়ী নাগরিকত্বের পাসপোর্ট আছে। রাজনীতি থেকে যে ‘আয়রোজগার’ হয়, তা দিয়েই বিদেশে তারা দ্বিতীয় বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
দেশ উন্নয়নের মডেল হোক, তা কখনো কি আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল? যদি থাকত তাহলে এই ছোট দেশটি গড়তে সময় লাগত মাত্র ১৫ থেকে ২০ বছর। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছতেও সময় লেগেছে তাদের মাত্র ২০ বছর। সবচেয়ে বড় কথা, ৩২ কোটি হাত ওসব দেশে নেই। কিন্তু আমরা ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাতকে দেশ গড়ার কাজে লাগাইনি। কাজ যে করিনি তা নয়, সে কাজটা ব্যক্তি ও দলের স্বার্থে; রাষ্ট্রের স্বার্থে সিকি অংশ ব্যয় করেছি মাত্র।
৪৬ বছর প্রায় সব দলই পরনিন্দায় ব্যস্ত ছিল। এখন তা আরো বেগবান হয়েছে। রাষ্ট্রের ১৬ কোটি নাগরিক গাধার খাটুনি খেটে এখন জীবন চালাচ্ছে। বেতন যা পায় তার অর্ধেকই ব্যয় হয় সরকারি খাতের বিভিন্ন খরচে, যেমন- গাড়িভাড়া, হোল্ডিং ট্যাক্স, ইনকাম ট্যাক্স, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল। পরোক্ষ যত কর আছে সবই মানুষের পকেট কেটে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
সরকারি কর্মচারীরা মোটামুটি ভালো আছেন। কারণ, তারা ভালো থাকলে ক্ষমতা সুরক্ষিত থাকে। সাধারণ জনগোষ্ঠীর দুই শ’ বছরের ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমলের ২৪ বছর এবং বাংলাদেশের ৪৫ বছরের শাসনামলে তাদের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ হলো ভাগ্যের চরম নির্মম পরিহাস। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে মুক্তকণ্ঠে কথা বলতে পারছে না। গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা অবরুদ্ধ।
এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলব। ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখলাম। একজন পোস্টে লিখেছে জঙ্গি নিয়ে বর্তমান দুনিয়ায় তোলপাড় চলছে, তার উৎপত্তি উনিশ শতকের গোড়ার দিকে।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যারা করেছিল, তারাই আসল জঙ্গি। গত তিন দশকে যারা তেলসম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরীহ ৪০ লাখ মানুষ মেরেছিল, তারাই আসল জঙ্গি। কারা যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে এখনো শত শত মানুষ প্রতিদিন খুন করছে- এরা কি আদি জঙ্গি নয়? কাশ্মিরে যারা মানুষ খুন করছে- এরা কারা, ভাবতে হবে এসব কথা। কাশ্মির সমস্যা নিয়ে সব সময় সোচ্চার থাকা ভারতীয় বুদ্ধিজীবী অরুন্ধতী রায় বলেছেন, ‘কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসন চলছে এবং নাগরিকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে সেখানে।’ আসলে কাশ্মির সমস্যার একমাত্র সমাধান স্বাধীনতা।
জঙ্গিবাদের উৎস ওইসব ক্ষমতাধর শক্তি, যারা গোটা বিশ্বে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ইরাক-ইরান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে তেল লুণ্ঠনের যুদ্ধসহ বহু যুদ্ধ অদ্যাবধি চালু রেখেছে- তারাই জঙ্গিবাদের মূল কারণ। এদের ধরতে পারলেই জঙ্গিবাদ অঙ্কুরে ধ্বংস হয়ে যাবে। জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে ইন্ধনদাতাদের পাকড়াও করতে হবে। তাদের পাকড়াও করা যায় না, কারণ তারা পরাশক্তি। আমরা আসল কথা বলতে ভয় পাই। মিসরে গণতন্ত্র হত্যা করা হলো বছর তিনেক আগে।
দুই মাস আগে তুরস্কের গণতন্ত্রও প্রায় ধ্বংসের দিকে যাচ্ছিল। বাংলাদেশও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে গণতন্ত্রবিহীন অবস্থায়। জঙ্গির মদদদাতারা এসব ব্যাপারে কথা বলেন না। গণতন্ত্র না থাকলেই পরাশক্তিদের জঙ্গিবাদের চাষ করতে সুবিধা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যেসব দেশে গণতন্ত্র ছিল নাÑ সেসব দেশই এখন জঙ্গিবাদের উর্বর ভূমি। সিরিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া- এসব দেশে যত মানুষ নিত্যদিন মারা যায়; তার কৈফিয়ত তলব করার জায়গা হলো জাতিসঙ্ঘ; সেটাও পরাশক্তির দখলে। কথা বলার জায়গাও ওদের নিয়ন্ত্রণে।
১৭ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে চমকে ওঠার মতো সংবাদ পরিবেশন করা হয়। সংবাদটি হলো- বিশ্বের চতুর্থ ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠন ভারতের মাওবাদীরা। ’৭০-এর দশকে নকশালপন্থী আন্দোলনের জোয়ার বইছিল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। অতি বামপন্থী সংগঠন হিসেবে পরিচিত নকশালপন্থীদের সেই সময় ভারত সরকার নিষিদ্ধ করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়- তালেবান, আইএস ও বোকো হারামের পরই নিষ্ঠুর পদ্ধতিতে মানুষ খুন করে মাওবাদীরা।
আর এতেই রীতিমতো নড়েচড়ে বসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সমীক্ষায় আরো বলা হয়, ২০১৫ সালে ভারতে মোট ৭৯১টি জঙ্গি হামলা হয়েছে- তার মধ্যে ৪৩ শতাংশ হামলাই চালিয়েছে মাওবাদী সংগঠনটি। এতে প্রাণ হারিয়েছে ২৮৯ জন। ওই সমীক্ষায় আরো ভয়ঙ্কর কিছু তথ্য প্রকাশ পায়। সেখানে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে গোটা বিশ্বে মোট ১১ হাজার ৭৭৪টি জঙ্গি হামলা হয়, আর এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ২৮ হাজার ৩২৮ জন মানুষ। এর মধ্যে ভারতে মাওবাদী হামলা হয়েছে ৩৪৩টি।
সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়, আইএস বিশ্বজুড়ে ৯৩১টি আক্রমণ এবং বোকো হারাম ৪৯১টি আক্রমণ চালিয়েছে। ফলে সংখ্যাতত্ত্বের বিন্যাসে ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পর ভারতেই জঙ্গি হামলা বেশি হয়েছে। মাওবাদীরা ৮৬২ জনকে অপহরণও করেছে (সূত্র : জি নিউজ)।
জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে, বিশ্বের ৩৭টি দেশের ওপর চালানো পরিসংখ্যানে শুধু ২০১৫ সালে গবেষকেরা ৭৬৬টি গুমের ঘটনার হদিস পেয়েছেন। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে গুমের সংখ্যা তিনগুণ বেশি। ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং আইনের সুরক্ষার অবনতি ঘটে এ সময় সবচেয়ে বেশি। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংস্থার ইউএন ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অব ইনভলেন্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স এ মন্তব্য করেছে। গোটা বিশ্বে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের একটি বছর ছিল ২০১৫ সাল। ২০১৬ সালের বিগত আট মাসের সংখ্যা ২০১৫ সালকে বহু আগেই অতিক্রম করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
আগামী দিনগুলো আরো ভয়ঙ্কর রূপ নেবে বলেও জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের কয়েকটি উদাহরণই প্রমাণ দেবে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ কতটা নিম্নগামী হয়েছে। ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইট টিভিতে দেখানো হয়েছে, নেত্রকোনায় মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে আছাড় মেরে হত্যা করেছে পাষণ্ড বাবা।
১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় দৈনিকের আরেকটি ভয়ঙ্কর সংবাদ- মাদারীপুরে কালকিনি উপজেলার নবগ্রামের নিতু মণ্ডলকে (১৪) নির্মমভাবে কুপিয়ে কয়েক টুকরা দেহকে বস্তাবন্দী করে খালে ফেলে দেয় একই গ্রামের যুবক মিলন মণ্ডল। কথিত প্রেমে সাড়া না দেয়ায় নিতুর এই ভয়ঙ্কর পরিণতি গোটা সমাজব্যবস্থার এক দানবীয় চিত্র। এ ছাড়া নিত্যদিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মানুষদের খণ্ড-বিখণ্ড দেহ দেখলে হার্টবিট বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
মানুষ আর মানুষ নেই- যার মধ্যে হুঁশজ্ঞান লুপ্ত, সে মানুষ বলে বিবেচিত নয়; সে বিবেকহীন পশুর সমতুল্য। আমরা অনেকেই নিজেকে নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি, আশপাশে কী ঘটছে তা নিয়ে একটুও ভাবি না। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে, সৎ কাজের আদেশ- অসৎ কাজের নিষেধ। এটা ইসলামের একটা প্রধান দিক। এর মধ্যেই জান্নাত পাওয়ার চাবিকাঠি।
আমরা যারা সচেতন বলে দাবি করি তারা কি একটুও ভেবে দেখেছি, আল্লাহর নিজেকে এ বাক্যটি আমরা প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহ, প্রতি মাস, এমনকি বছরে একবারও কি সমস্বরে একটি প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য ভুলে গিয়ে উচ্চারণ করেছি? যদি তা না-ই করে থাকি, তাহলে স্বদেশে কিভাবে অন্যায়-অবিচার, অসত্যের চাষ বন্ধ হবে এবং নৈতিকতা ফিরে আসবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুর্ঘটনার তালিকার সাথে বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যুর মিছিল অনেক দীর্ঘতম বলা যায়। আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদনে এর একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে পত্রিকার কলামে। বাংলাদেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ মহাসড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। আহতের সংখ্যাও সর্বাধিক। প্রতি ১০ হাজার যানবাহনে ৮৫.৫। পশ্চিমা দেশগুলোতে এই হার প্রতি ১০ হাজার যানবাহনে মাত্র ৩। পুলিশের তথ্য আংশিক সত্য বলে প্রতীয়মান। তারা বলছেন, সারা বছর তিন থেকে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে তা ২০ থেকে ২১ হাজারেরও বেশি।
আর বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি উল্লেখ করেছে- ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে আট হাজার ৬৪২ জন। কিন্তু ২০১৬ সালে ৯ মাসেই এই সংখ্যা অতিক্রম করেছে। গত এপ্রিল মাসে তামিলনাড়ুতে (ভারত) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থোপেডিক হাসপাতালে ঢাকার এক রোগীর সাথে পরিচয় হয়। মিরপুরে থাকেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দুর্ঘটনায় দুই পা অকেজো হয়ে যায়। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন প্রায় দুই মাস। কোনো উন্নতি হয়নি। ডাক্তারেরা বলেছেন- আপনার পা দুটো কেটে ফেলতে হবে। হুইলচেয়ার ছাড়া বিকল্প নেই। আল্লাহর অপার কৃপায় চেন্নাই গিয়ে তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ। হাঁটতে পারেন। বললেন- আল্লাহর দরবারে হাজারো শোকরগুজারি করছি। হাসপাতালটি ঘুরে দেখলাম- অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়া এই হাসপাতালে অনিয়ম চোখে পড়ল না। সাধারণ ওয়ার্ডগুলোও আমাদের দেশের ভিআইপি কেবিনের চেয়ে সুন্দর। ছিমছাম সাজানো-গোছানো। ভোগান্তি নেই বললেই চলে।
আমাদের দেশে হাড়ের সমস্যায় ভুগছে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে হাড়ের সমস্যা ও জয়েন্ট পেইন এখন অতীতের চেয়ে বেশি। সে তুলনায় মানসম্মত ডাক্তার ও হাসপাতাল নেই। মসজিদে মুসল্লিদের চেয়ারের সংখ্যা বাড়ার কারণও এই দুষ্ট ব্যাধি।
লেখক : গ্রন্থকার, গবেষক ও কলামিস্ট
ই-মেইল : [email protected]
এসএ





