বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহনগরী সেক্রেটারী নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের দ্বারাই গণতন্ত্র বারবার হুমকীর মুখোমুখী হয়েছে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তারা গণতন্ত্র হত্যা করে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করেছিল। ৪ টি সরকার নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা বাদে সকল পত্রিকা বন্ধ করে গণমাধ্যমে টুটি চেপে ধরা হয়েছিল।
হত্যা করা হয়েছিল ৩০ হাজার বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকে। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি।
তিনি আজ রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর আইনজীবী বিভাগের এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
আইনজীবী বিভাগের সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দীনের সভাপতেত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট জাকির হোসাইন, এ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, এ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দীন মিঠু, এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খন্দকার ও এ্যাডভোকেট মাঈনুদ্দীন প্রমূখ।
তিনি বলেন, ১৯৮২ সালের মার্চ একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে স্বৈরাচারী এরশাদ স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতা দখল করলেও আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারকে স্বাগত জানিয়েছিল। মূলত আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও তারা মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে।
তারা রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য মুক্তিযুক্তের চেতনাকে ধর্ম বিশেষ করে ইসলামের প্রতি পক্ষ বানিয়েছে। তারা ৫ জানুয়ারীর তামাশা ও ভাঁওতাবাজীর নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে হত্যা করেছে।
সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতাদের অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রেখে জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে।
তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই ব্যর্থ ও জুলুমবাজ সরকারের পতনের কোনই বিকল্প নেই।
তিনি সরকারের দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আইনজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহবান জানান এবং আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।
তিনি বলেন, আইনজীবীরা এক মহান ও দায়িত্বশীল পেশায় নিয়োজিত। দেশ ও জাতির যেকোন ক্রান্তিকালে আইনজীবীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা করে দেশ ও জাতির জন্য ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন।
তাই দেশের এই ক্রান্তিকাল মোকাবেলায় আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত হতে হবে। বর্তমান সরকারের দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং অপশাসন ও দুঃশাসন মোকাবেলায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
আইনজীবীদের নৈতিক মান উন্নয়নের জন্য বেশী বেশী করে কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
মূলত চরিত্র মাধুয্যই পারে একটি সুখী ও শান্তির সমাজ উপরহার দিতে। তাই আইনজীবীদের আগামী দিনে নেতৃত্বদানের জন্য অবশ্যই নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। তাহলেই আমরা দেশ ও জাতিকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তির সমাজ উপহার দিতে পারবো।
তিনি ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহবান জানান।
এসএইচ





