রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা জনাব আবদুল বাসেত মারজান এবং গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার জামায়াত কর্মী শামীম আহমাদকে প্রায় ৭ মাস পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক স্ব-স্ব থানায় সোপর্দ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান।
আজ বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, “জনাব আবদুল বাসেত মারজান বিপুল ভোটে মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
পুলিশ তার বিরুদ্ধে বাসে পেট্রল বোমা হামলার মিথ্যা মামলা দেয় এবং সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারী তাকে ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মাদপুরের এক বাসা থেকে গ্রেফতার করে।
কিন্তু তার স্ত্রী র্যাব অফিস, মোহাম্মদপুর থানাসহ বিভিন্ন থানা এবং ঢাকার ডিবি অফিসে খোঁজ-খবর নিতে গেলে তাকে জানানো হয় যে, এ নামে কোন ব্যক্তিকে তারা গ্রেফতার করেনি।
তার স্ত্রী চলতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলন করে তার স্বামীর খোঁজ না পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন, যা সকল জাতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তিনি তার স্বামীকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা কামনা করেন।
দীর্ঘদিন পর্যন্ত তার স্বামীকে ফেরত না পেয়ে তার শ্বশুর-শাশুড়ি, পুত্র এবং কন্যাসহ গোটা পরিবার মাসের পর মাস গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটান।
মিঠাপুকুর উপজেলার জনগণের প্রাণপ্রিয় মানুষটি কোথায় কিভাবে আছেন তারা কেউ জানতেন না। তাদের চোখের পানি এবং আহাজারীতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়েছে। কিন্তু তারা তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পাননি।
অনুরূপভাবে জামায়াত কর্মী শামীম আহমাদকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ বগুড়া থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করে। শামীমের পিতা খোঁজ-খবর নিতে গেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে।
ফলে দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস যাবত জনাব শামীমের পরিবার নিজেদের আপনজনের খোঁজ-খবর না পেয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগতে থাকেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নাটক সাজিয়ে জনাব মারজান ও শামীমকে গতকাল ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে বলে জানায় এবং স্ব স্ব থানায় সোপর্দ করে। জাতি জানতে চায় গত ৭ মাস যাবত তাদেরকে কারা, কোথায়, কি কারণে লুকিয়ে রেখেছিল?
মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে নাটক এবং তামাসা সাজানো চরম অমানবিক। আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের বেআইনী ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে যাতে আর কাউকে এভাবে গুম না করা হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
জনাব আবদুল বাসেত মারজান ও জনাব শামীম আহমাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের খবর পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলেও তাদের আতঙ্ক এখনো কাটছে না। এ সরকার ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার জন্য এভাবে জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।
আমি জনাব মারজান ও শামীম আহমাদকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি এবং সেই সাথে দেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং দেশী-বিদেশী সকল মানবাধিকার সংস্থার প্রতি এ ধরনের অপকর্ম রোধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
এসএইচ





