সরকার জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে বিভোর বলে অভিযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি ভাঁওতাবাজির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় চেপে বসে তাদের গণবিরোধী ষড়যন্ত্রের ষোলআনা পূর্ণ করেছে। তারা দেশ থেকে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংস করতেই জামায়াতের শীর্ষনেতৃবৃন্দকে একের পর এক নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যার ঘৃন্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। সে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং আব্দুল কাদের মোল্লাকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা একইভাবে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ অন্যদেরকে হত্যা করতে চায়।

তিনি বলেন, সেই সুদূর প্রসারী চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে বিভোর বাকশালী ও ফ্যাসিবাদী সরকার। সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী দলীয় তদন্ত কর্মকর্তা, দলীয় প্রশিকিউশন, ফরমায়েশী বাদী, সাজানো ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সাক্ষীদের সম্পূর্ণ মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে একজন জাতীয় নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার তাদের এসব গণতন্ত্র, দেশ ও স্বাধিনতা-স্বার্বভৌম বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও কথা বলার অধিকার পর্যন্ত সম্পূর্ণরুপে কেড়ে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওয়ান ইলেভেনের সরকার ২০০৮ সালে একটি পাতানো ও সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনে। চলতে থাকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী এবং দেশকে পরাশ্রয়ী করদরাজ্য বানানোর গভীর ষড়যন্ত্র । তারই অংশ হিসেবে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম রক্ষাকবজ কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশনকে সাজানো হয় দলদাস লোক দিয়ে। ফলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন এখন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রশাসন ব্যবস্থাকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। দেশের বিচার বিভাগের উপর সরকারের অবৈধ খবরদারীও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে সুশাসনের পরিবর্তে আওয়ামী দুঃশাসনের খড়গ শান্তিপ্রিয় জাতির ঘাড়ে নেমে এসেছে। দেশে এক বিভিষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে।

জামায়াত নেতা বলেন, সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জনগণ ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। নগরবাসী সকাল-সন্ধ্যার হরতাল সর্বাত্মকভাবে সফল করে বাকশালী সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে তারা মীর কাসেম আলীকে হত্যার ষড়যন্ত্র ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু সরকার জনগণের শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক কর্মসূচিতে পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে গোটা নগরীকেই পুলিশের নগরীতে পরিণত করছে। পুলিশ হরতালকারীদের উপর বিনা উস্কানিতে হামলা ও লাঠিচার্জ করেছে। যাত্রাবাড়ী ও কাফরুলসহ বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ মিছিলের প্রস্তুতির সময় সরকারের পেটুয়া বাহিনীর কারনে বাধাগ্রস্থ হয়। কিন্তু জনগণ সরকারের সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে জামায়াত আহুত সকাল-সন্ধ্যার হরতাল কর্মসূচি সার্বিকভাবে সফল ও সার্থক করেছে। তিনি সকাল-সন্ধ্যার হরতাল কর্মসূচি সফল করায় সকল স্তরের নগরবাসীকে অভিনন্দন জানান।

এসটি