শুভেচ্ছা বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, হযরত ইবরাহীম (আ)-এর স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের নিকটে সমাগত। ঈদুল আযহা আমাদেরকে ত্যাগ ও কুরবানির আদর্শে উজ্জীবিত করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারই উদ্দেশ্যে সবকিছু বিলীন করে দেওয়ার চেতনা জাগ্রত করে। সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, শোষণমুক্ত ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কুরবানি আমাদেরকে অনুপ্রেরণা দেয়। ত্যাগ ও কুরবানির মানসিকতা নিয়ে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে। আর এর মাধ্যমেই কেবল মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।

বিবৃতিতে তারা বলেন, এবার আমরা যখন পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করতে যাচ্ছি, তখন সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি এবং ভারতের বাঁধ সুইচগেট খুলে দেওয়ার কারণে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় মানুষের সম্পদ, বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, গবাদি পশু, মাছের খামার বন্যার পানিতে ভেঁসে গেছে। মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, ঘরে খাবার নেই। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষ অত্যন্ত অসহায় ও মানবেতর জীবন-যাপন করছে। শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যায় সিলেট মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা ডুবে যায়। বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা এক ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। দেশের এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও বেদনাহত হৃদয় নিয়ে আমরা প্রিয় ঢাকা মহানগরী দক্ষিণবাসীসহ সমগ্র দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরা নগরবাসী সকলের সুখ-সমৃদ্ধি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি কামনা করছি। কাজেই আমাদের জীবন ও সম্পদ একমাত্র আল্লাহর এবং তা আমাদের কাছে তার আমানত। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ও তার পছন্দনীয় পথে তা ব্যয় করাই একান্ত কর্তব্য। একইসাথে করোনা মহামারী, বন্যা, অগ্নিকা-ের ভয়াবহতা ও নানা বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট তারা বিশেষ দোয়া করেন। নেতৃবৃন্দ সবাইকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রেখে স্বাস্থ্য সচেতনতার সাথে কুরবানীর ঈদ উদযাপন করতে আহবান জানান। (প্রেস বিবৃতি)

এইচএন