সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের আতারপাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, চৌমাদিয়া, কড়ারি নওশারা, নীচ পলাশী ও কালিদাস খালীসহ ১৩ গ্রামের অধিকাংশ সড়ক হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও নৌকায়, আবার কোথাও পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয়রা।
পানি ঢুকে পড়ায় অনেক বাড়ির মেঝেতে মাচা তৈরি করে বসবাস করছেন বাসিন্দারা। উঁচু জায়গার অভাবে গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তারা। ফসলের মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পানির কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে চৌমাদিয়া ও ফতেপুর পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পানি আরও বাড়লে আমারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কাজ নেই, খাবারেও টান
বন্যায় কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনমজুর ও কৃষক পরিবারগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কাজল ফকির, মিঞা খা, হালিম খা ও মজনু ফকিরসহ অনেকে জানান, পানির কারণে তারা প্রয়োজনীয় কাজে কোথাও যেতে পারছেন না। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মানুষের পাশাপাশি গরু-ছাগলের খাবার নিয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে। মাঠ পানিতে ডুবে থাকায় পশুর জন্য ঘাস বা অন্য খাবার সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থারও সংকট রয়েছে।
স্কুল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা জানান, ভাঙনের কারণে প্রায় এক মাস আগে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন স্থানেও মেঝেতে হাঁটুসমান পানি জমেছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানান, ভাঙনের কারণে ফতেপুর পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও পানি বাড়লে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের মধ্যে ১৩ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে রয়েছেন। নদীর পানি না কমা পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। দ্রুত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সহায়তা প্রয়োজন।
ত্রাণ দিচ্ছে প্রশাসন
চকরাজাপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার। তিনি জানান, আতারপাড়ার ১০০ পরিবারকে ১৫ কেজি করে এবং নীচ পলাশী গ্রামের ৫০ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের বাসিন্দাদেরও সহায়তার আওতায় আনা হবে।
এস





