টকশোতে বক্তারা মন্তব্য করে বলেছেন, পেট্রলবোমা ছোড়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহন ভাংচুরের  মাধ্যমে দেশকে আজ আক্রান্ত করা হয়েছে। হরতাল এ অবরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই পেট্রল বোমার বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে দূর্বৃত্তরা। যারা নাসকতা ও হামলা চালাচ্ছে তাদেরকে দলীয় কর্মী হিসেবে স্বীকার করতে চাচ্ছেন না কেউই।

চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ। তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংলাপ করে সংকট নিরসনের জন্য রাজনৈতি দলগুলোর প্রতি তাগিদ দেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেন, বর্তমান সংকট নিরসনে সংলাপ একান্ত জরুরী। দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিক হোক অথবা সুশীল সমাজ হোক কিংবা অন্য যেকোনো কেউ সংলাপের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।

কল্যাণ পার্টির চেয়াম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ ইব্রাহিম বলেন, দুই নেত্রি আলোচনায় না আসলেও অন্যরা আলোচনা করে সংকট নিরসন করতে হবে।

নাসকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলমান নাসকতার হুকুম বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দিচ্ছেন না। কারণ তার সাথে নেতা-কর্মীরা রীতিমত সাক্ষাৎ করতে পারছেন না। তার বাসার ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। এখন বিশৃঙ্খলভাবে নাসকতার ঘটনা ঘটছে। অপরাধিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে সকলের প্রতি আহ্বাণ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পত্র পত্রিকা ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায় পেট্রল বোমা হামলার সাথে সরকার দলীয় কর্মীরা জরিত রয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রি শাহজাহান খান বলেন, অবরোধ ও হরতার সমর্থকরা নাসকতা করছে। জনগণ তাদেরকে পিঠুনি দিয়ে পুলিশে তুলে দিচ্ছে।

সিপিবির কেন্দ্রিয় কমিটির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান বলেন, রাজনীতিক নেতারা এত হৃদয়হীন হতে পারেন তা আমার জানা ছিলো না। দেশে এখন একে অপরকে নির্মূল করার রাজনীতি চলছে। অতিতেও রাজনৈতি সংকট ছিলো, কিন্তু বর্তমানের মত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ একে অপরকে মত প্রকাশের জায়গা করে দেয়া।

চলমান সৃষ্ট সংকটে পশাক শিল্পে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশিলতায় পোশাক শিল্পে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। এ খাতে বর্তমানে অর্জণ ১.৭১% যা ৮% হলে লক্ষ পূরণ করা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, যে সব ব্যবসায়ীরা নাসকতায় অর্থের জোগান দিচ্ছে তারা নিজেদের স্বার্থ হাছিল করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ তাদের চিহ্নিত করা।

এমকে