বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মির্জা আব্বাসকে বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার দেশে ফেরাকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতার শারীরিক অবস্থা এবং দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরার বিষয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি
গত ১১ মার্চ ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই দিন গভীর রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসকেরা নিবিড়ভাবে নজর রাখেন। কয়েক দিন চিকিৎসার পরও অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এরপর ১৫ মার্চ মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা গ্রহণ করেন তিনি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে পরবর্তী সময়ে তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করেন বিএনপির এই প্রবীণ নেতা।
দুই দেশে চিকিৎসা শেষে বুধবার রাতে তিনি দেশে ফেরেন। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরে আসায় তার পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা মির্জা আব্বাস
মির্জা আব্বাস বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ঢাকা-৮ আসনের রাজনীতিতেও মির্জা আব্বাসের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে তার রাজনৈতিক প্রভাব ও সাংগঠনিক ভূমিকা দীর্ঘদিনের।
চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরায় স্বস্তি
মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর থেকেই তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। দেশে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। পরে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।
প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস দেশের বাইরে থাকার পর তার দেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে চিকিৎসার দীর্ঘ পর্বের আপাতত সমাপ্তি হলো। তবে দেশে ফেরার পর তিনি কবে থেকে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হবেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
বিএনপির রাজনীতিতে মির্জা আব্বাসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা এই নেতার দেশে ফেরাকে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
সামনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড
দীর্ঘ সময় চিকিৎসার কারণে দেশের বাইরে থাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিতে পারেননি মির্জা আব্বাস। দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়টি নির্ধারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পর্যায়েও তার দায়িত্ব রয়েছে।
এদিকে, মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার খবরে তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন তারা।
প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরে এখন পরিবারের সদস্য ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাবেন মির্জা আব্বাস। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে তার নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফেরার বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
এমএম