এর অংশ হিসেবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সংশ্লিষ্ট পণ্যে ইতোমধ্যে আয়কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে মানুষকে উৎসাহিত করতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনা হবে।

সরকারি বিভিন্ন ভবনে ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ বাস্তবায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, লিথিয়াম ব্যাটারির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। শিল্পকারখানায় সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দিতে কাঁচামাল আমদানির ওপর কর অব্যাহতির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উপায়ে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব বিষয় নিশ্চিত করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানে সরকারের ১০ বছর মেয়াদি একটি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী শিগগিরই এ পরিকল্পনার বিস্তারিত জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন বলে জানান তিনি।

সরকারের আশা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, রুফটপ সোলার কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং দেশীয় জ্বালানি সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

এস