শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর কাঁটাবন মসজিদ কমপ্লেক্সে বাদ জোহর এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণের আগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনি। তাঁর অভিযোগ, দলটি ক্ষমতা দখল করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধী মত দমনে সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি নয়, আধিপত্যবাদের স্বপক্ষের শক্তি উল্লেখ করে , স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি তারাই যারা শত জুলুম-নির্যাতনের পরও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। দেশের সংকটকালে জনগণকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি রেখে একমাত্র জামায়াতে ইসলামী কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা স্বেচ্ছায় নির্বাসনে লন্ডন বা দিল্লি চলে যায়নি। তিনি বলেন, যারা দেশ ছেড়ে নিজেদের প্রভুর দেশ দিল্লি আর লন্ডন চলে যায় তারা কখনো স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হতে পারে না, দেশপ্রেমিক হতে পারে না।
শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলেও বিরোধী দল ও মত দমনে সহিংসতা চালানো হয়েছে।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত-বিএনপি এক থাকলে কখনোই আ’লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারার ভয়ে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালানো হয়েছে। সেদিন আওয়ামী লীগ মূলত আধিপত্যবাদী শক্তির সহযোগিতায় জামায়াত-শিবিরকে নিঃশেষ করতে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে এদেশে আবারও আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চক্রান্তে লিপ্ত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ শে অক্টোবর থেকে এদেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মুখোশ উম্মোচিত হয়েছিল। সেদিন থেকে বাংলাদেশ পথ হারাতে শুরু করে। তার পরবর্তীতে ১/১১ সরকার খ্যাত সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ত্রিমুখী সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করে দেশে আধিপত্যবাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। বাতিল করে দেওয়া হয় ২৮ শে অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারিক মামলা। অথচ বাদীর সম্মতি ব্যতিত হত্যা মামলা বাতিল করা সাংবিধানিকভাবে কারো ক্ষমতা নেই। তিনি বলেন, আজও শহীদ পরিবার এবং আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীরা ২৮ শে অক্টোবরের লগি-বৈঠা হত্যাকাণ্ডের বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। যেখান থেকে ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের গণহত্যার সূচনা সেখান থেকেই আওয়ামী লীগের বিচার করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত ২৮ অক্টোবরের দায়ের করা মামলার বিচার কার্যক্রম পূণরায় শুরু করতে হবে। নতুবা জাতি বুঝে নেবে, বিএনপি ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের গণহত্যার বিচার না করার নিশ্চিয়তা দিয়ে আধিপত্যবাদের সঙ্গে আতাঁত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সংগঠিত গণহত্যার পুনঃতদন্ত করে দায়েরকৃত ওই মামলা যেটি আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে বাতিল করেছি সেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ২৮ অক্টোবর থেকেই বিএনপি রাজনৈতিক ঐক্যের ভাঙনের ইতিহাস সৃষ্টি করে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর চারদলীয় জোট সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা ছাড়ার আগে একটি সমাবেশ করে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু করবে। কিন্তু বিএনপি সেদিন জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে নিজেরা এককভাবে নয়া পল্টনে সমাবেশের আয়োজন করে। বাধ্য হয়ে জামায়াতে ইসলামী সেদিন বায়তুল মোকাররম উত্তর সড়কে সমাবেশ আহ্বান করে। মূলত সেদিন থেকেই বিএনপি রাজনৈতিক ঐক্যের ভাঙনের ইতিহাস সৃষ্টি করে। সেদিন রাজনৈতিক ঐক্য বিএনপি না ভাঙলে আ’লীগ লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালাতে পারতো না। সেদিনের ঘটনায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভূমিকা আজও প্রশ্নবিদ্ধ। কেন সেদিন পুলিশ আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা তাণ্ডবে গণহত্যার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে নিরব দর্শকের ভূমিকা রেখেছে সেটি জাতি বুঝতে পেরেছে।
মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুর নবী মানিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুফতি মাওলানা ড. খলিলুর রহমান মাদানী, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, শাহবাগ পশ্চিম থানা আমীর অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী, নিউমার্কেট থানা আমীর মাওলানা মহিব্বুল হক ফরিদ প্রমুখ।
এস











