শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, বাণিজ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধ বন্ধ করতে রাজি করিয়েছিলেন। তিনি বলেন, দুই দেশকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন—সংঘাত অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থ উপার্জনের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং তাদের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর এই হুমকিতে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশ ক্ষুব্ধ হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই গোলাগুলি বন্ধ করে এবং সংঘাতের অবসান ঘটে।

সমাবেশে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতসহ তিনি এ পর্যন্ত আটটি যুদ্ধের মীমাংসায় ভূমিকা রেখেছেন। এতগুলো সংঘাত থামানোর পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি আটটি যুদ্ধের মীমাংসা করেছি। আমি কি নোবেল পুরস্কার পেয়েছি? না।’

২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৭ মে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। পরে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা চালায়।

ট্রাম্প এর আগেও দাবি করেছেন, বাণিজ্যচুক্তি ও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে তিনি দুই দেশের সংঘাত থামাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে ভারত সরকার তাঁর এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানান এবং দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে সংঘাত থামে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি একাধিকবার পুরস্কারটির প্রসঙ্গ এনেছেন।

তবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রাম্প পাননি। মূল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী নাভেনথাম ‘নাভি’ পিল্লাই।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

এস