রোববার (৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের এ আন্দোলন নির্দিষ্ট কোনো দলের আন্দোলন নয়। এ আন্দোলনে সাধারণ জনগণ নেমেছে , তাদের কথা শুনে বুঝবেন যে তারা এখন পরিবর্তন চায়।
তিনি বলেন, আজকে যখন এদেশের এক কৃষক ২৫ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় জেলে যেতে হয়, অন্যদিকে কেউ কেউ ২৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে আবার রিসিডিউলের সুযোগ পান। এমন রাষ্ট্র আর কেউ দেখতে চান না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দূর্ভাগ্য যে মুক্তি গত ৫০ বছরেও মুক্তিযোদ্ধাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো পূরণ করতে পারিনি। এটা জাতির একটা দূর্ভাগ্য অবশ্যই। কিন্তু এখন মানুষ যেভাবে উঠে দাড়িছে, মানুষ যেভাবে রাস্তায় নেমে আসছে তাতে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। হয়তো আর একটি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাতির দ্বিতীয় বার মুক্তি সম্ভব হবে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, এটা কী করে সম্ভব যে আমরা ৫০ বছর ধরে স্বাধীন আছি। অনেক উন্নয়ন করছি, মেগা উন্নয়ন হচ্ছে। চতুর্দিকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া হয়ে যাচ্ছে৷ কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ব্যবস্থাটাই আমরা করতে পারিনি। প্রতিবার নির্বাচনের আগে একটা সংঘাত তৈরি হয়। এ সংঘাতের কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করার সিদ্ধান্ত।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধীদলের আন্দোলন শুরু হলেই আওয়ামী লীগ বলতো- অগ্নিসন্ত্রাস আর জঙ্গি। দুটোই কিন্তু এখন মাটি হয়ে গেছে। মানুষ সেসব কথা আর বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশে অগ্নিসন্ত্রাস আর জঙ্গি এ দুটি বিষয় কোনোভাবেই আর বিশ্বাসযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। এটা কিন্তু আমাদের বিভাগীয় শেষ সমাবেশ। এখানে আমরা সবাই মিলে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সামনে নিয়ে আসবো।
কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফারহাদ ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এমআই





