বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণের স্বার্থে একটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
চামড়া শিল্প নগরীর উন্নয়ন, ট্যানারি স্থানান্তর এবং ফুটওয়্যার ও লেদারগুডস শিল্পের উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন,সমুদ্র সীমা নির্ধারণের জন্য অতীতে কোন সরকার চেষ্টা করেনি। একমাত্র শেখ হাসিনার প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে। এতে বড় সম্পদ রয়েছে। খনিজ তেলের সম্ভাবনা বেশি। এটার মাধ্যমে আমরা দেশকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। এ অর্জিত সম্পদ আহরণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করে দিচ্ছে।
আমু আরো বলেন, ধর্মের নামে যারা সহিংসতা করছে তাদেরকে বুঝতে হবে যে, সহিংসতা করে রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ট্যানারি শিল্প-কারখানার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটা এগিয়ে নিতে পারলে আমরা অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবো, অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, অনেক জটিলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। আর এ দেশে আছে নানা সম্ভাবনা। তাই সোনার বাংলাদেশ নিয়ে চলছে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত।
এদিকে,রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প-কারখানা দ্রুত স্থানান্তরে ‘ওয়ার্কিং টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। চলতি বছরই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সমন্বয় করে এ কমিটিকে কাজ করারও নির্দেশ দেন তিনি। 
রোববার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস  অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ্ ও বিসিক চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর শিকদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. আবু তাহের।
সভায় এ শিল্পের উদ্যোক্তারা সরকারকে চারটি প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবগুলো সরকার বাস্তবায়ন করলে এ শিল্প পোশাক শিল্পের মতো অবস্থান করে নিতে পারবে বলে আশা করছেন তারা।
সভায় সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহি তার লিখিত বক্তব্যে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলো হল: সিইটিপি নির্মাণ, ২০০ একর জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা, সহজ শর্তে কম সুদে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণদান, রপ্তানি প্রণোদনা প্রদান ও ব্যাংকিং সহজীকরণ করা।
[b]ঢাকা,২৬জানুয়ারি,(টাইমনিউজবিডি)//এসএইচ[/b]