মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একদিনের রিমান্ড শেষে পুলিশ ফরওয়ার্ডিংসহ তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আপনারা ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন, দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে একদিনের রিমান্ড শেষে পুলিশ ফরওয়ার্ডিংসহ আদালতে হাজির করা হয়েছে। দীর্ঘ এজাহার ও রিমান্ড শেষে যে ফরওয়ার্ডিং দেওয়া হয়েছে, সেটি মাত্র ১৫ লাইনের। অর্থাৎ সেখানে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি, পাওয়ার কোনো কথাও নেই। কারণ, পুরো এজাহারই ভুয়া, পরিকল্পিত, সাজানো ও হয়রানিমূলক।’
তিনি বলেন, ‘এরপরও আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা চারটি আবেদন দাখিল করেছি। আইনজীবী হিসেবে আইনি পরামর্শ করার জন্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হলে আদালত সেই অনুমতি দিয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করার জন্য আবেদন করলে সেটিও অনুমোদিত হয়। এরপর জামিনের আবেদন করা হয় এবং এ বিষয়ে দীর্ঘ শুনানি হয়েছে। আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি এবং প্রসিকিউশনও তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছে।’
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যে ধারাগুলো দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারা ছাড়া বাকি সব ধারাই জামিনযোগ্য। ৩৫৩ ধারা সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগসংক্রান্ত। কিন্তু মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কোনো ধরনের সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেননি।
প্রসিকিউশন প্রশ্ন করেছে, তিনি কেন বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। আমরা তাদের বলেছি, হয়তো তাদের এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা নেই। ৩৪ জন সম্মানিত সংসদ সদস্যসহ মোট প্রায় ৬০ জনের একটি প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন। সর্বশেষ তারা সৌদি আরব থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে গিয়ে তারা অনিয়ম দেখতে পান। কারও লাগেজ ছিল না, আবার লাগেজ থাকলেও জমজমের পানি ছিল না। আবার জমজমের পানি দেওয়া হলেও তাতে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর ট্যাগ লাগানো ছিল না। অর্থাৎ একজনের পানি অন্যজনকে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সেখানে কর্তব্যরতদের বলেন, ‘আপনাদের সমস্যা কোথায়?’ তখন তারা জানান, তাদের ট্রলির সংকট রয়েছে। বিমানবন্দরে বিভিন্ন সংস্থা ট্রলি দিয়ে থাকে বা দান করে থাকে। তখন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আপনাদের যদি ট্রলির সমস্যা থাকে, তাহলে কোন সংস্থার মাধ্যমে ট্রলি দেওয়া যায়, আমরা ট্রলি দেব।’ তিনি একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য। তখন তাকে বলা হয়, ‘আপনি ট্রলি দেওয়ার কে?’
আইনজীবী বলেন, ওই সময় আর কোনো সমস্যা হয়নি। পরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বাসায় ফিরে যান। এরপরই সংশ্লিষ্টদের মিথ্যা বোধোদয় হয় যে, এখানে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান অপরাধ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ‘বাতিল মাল’ বলেছেন। আমরা আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের এই বক্তব্যের চ্যালেঞ্জ করেছি। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ এর কোনো জবাব দিতে পারেনি।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, তার বয়স বিবেচনায় এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তার অবস্থান বিবেচনায় জামিন দেওয়া উচিত। তিনি ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছেন। এ ছাড়া যে ধারাগুলো দেওয়া হয়েছে, তার সবগুলোই জামিনযোগ্য, একটি ধারা ছাড়া। যে ধারাটি অজামিনযোগ্য, সেই ধারার অভিযোগের পক্ষে কোনো দলিল-প্রমাণ নেই, সিসিটিভি ফুটেজ বা সাক্ষ্যও নেই। সুতরাং ওই অজামিনযোগ্য অভিযোগটিও সত্য নয়।
তিনি বলেন, এসব কারণে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জামিন পাওয়ার হকদার। আমরা তার জামিনের পাশাপাশি ডিভিশন এবং চিকিৎসার বিষয়েও শুনানি করেছি। এরপর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
আইনজীবী বলেন, খুব দ্রুতই আমরা আবার জামিনের আবেদন করব। হয়তো এই আদালতে অথবা মহানগর দায়রা জজ আদালতে দ্রুত জামিন চাওয়া হবে।
এস











