মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের ঘটনা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নির্দেশনা ছাড়া এটি ঘটতে পারে না। আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দেওয়ায় সৃষ্ট আক্রোশ থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে ট্রলি পাওয়া যায় না এবং লাগেজ পেতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয়। আখতারুজ্জামান এসব অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাকে উপলক্ষ করে রাজনৈতিক কারণে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে করা জামিনযোগ্য মামলায় আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে সেদিনের ঘটনা নিয়ে জাতির সামনে অসত্য কথা বলে শপথ ভঙ্গ করেছেন। মন্ত্রী সৎ হলে অব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন, তাদের প্রত্যাহার করতেন এবং মামলা দিতেন। কিন্তু তা না করে অব্যবস্থাপনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা কর্মকর্তার মাধ্যমে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, আখতারুজ্জামান সমাজের একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। অথচ তাকে হাতকড়া, হেলমেট ও জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে আনা হয়েছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা—এ সংক্রান্ত গেজেট আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপরও তাকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। ৭৫ বছর বয়সী আখতারুজ্জামান অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। অবিলম্বে তার ডিভিশনের আদেশ কারাগারে পাঠানোর দাবি জানান তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বিচারকরা ভয় পাচ্ছেন তাকে ডিভিশন দিলে কী না হয়, এর পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি আরও বলেন, আদালতে বিএনপির আইনজীবীরা মব সৃষ্টি করেছে এবং আখতারুজ্জামানের আইনজীবীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। জামায়াতের নেতাকর্মী ও আখতারুজ্জামানের আত্মীয়স্বজন, যারা তাকে দেখতে গিয়েছিলেন, তাদের ওপরও হামলা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী যুগে আদালতে যে দৃশ্য ও ঘটনা ঘটানো হতো, তারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আচরণের দিক থেকে কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও এখনকার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সারা দেশে কর্মসূচি হচ্ছে। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তাকে মুক্তি না দিলে রেমিট্যান্স শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।

এস