বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ শোক প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত ৯ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে গিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের এ ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও কষ্টদায়ক।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, স্বজন হারানোর এই অপূরণীয় ক্ষতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি মহান আল্লাহর কাছে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাছুম মিয়া (৪০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার ঘটনাতেও শোক প্রকাশ করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিবৃতিতে তিনি জানান, গত ১৭ আগস্ট পূর্ব লন্ডনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাছুম মিয়া নিহত হন। পৃথক এই ঘটনায়ও বাংলাদেশি একজন নাগরিকের প্রাণহানিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার নিহত মাছুম মিয়ার পরিবার ও স্বজনদের প্রতিও সমবেদনা জানান এবং মহান আল্লাহর কাছে তাদের এ শোক ও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার তাওফিক কামনা করেন।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের এই নেতা।

তিনি বলেন, ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিহতদের মরদেহ দ্রুত ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের পরিবার ও স্বজনদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। এ সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশি মিশনগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

তিনি নিহতদের স্বজনদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, প্রিয়জন হারানোর এই শোক যেন তারা ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন, সে জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহান রবের নিকট দোয়া করি, তিনি যেন নিহতদের আত্মীয়স্বজনকে তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক কাটিয়ে ওঠার তাওফিক দান করেন।’

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে যারা দগ্ধ ও গুরুতর আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতার জন্যও দোয়া করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা যাতে না হয়, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে চিকিৎসা, ব্যবসা, কর্মসংস্থান কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন।

কলকাতার অগ্নিকাণ্ড ও পূর্ব লন্ডনে গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দুটি পরিবারেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সময়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনা বা অপরাধের ঘটনায় দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের জন্য দোয়া এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এস