ঝিনাইদহে শিবিরের দুই নেতা শহিদ আল মাহমুদ ও আনিসুর রহমানকে নির্মমভাবে ক্রসফায়ারে হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

শুক্রবার বাদ জুমা খিলগাঁও, বাড্ডা, ধানমন্ডি, সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্র শিবির।

বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা।

মহানগর সেক্রেটারি এস আর মিঠুর নেতৃত্বে বিক্ষোভে আরো উপস্থিত ছিলেন শাখা অর্থ সম্পাদক ইমাম হোসেন, অফিস সম্পাদক ফায়জুর রহমান সহ মহানগরীর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার বাদ জুমা বাড্ডা নতুন বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।

শাখা সভাপতি হাসান জারিফের নেতৃত্বে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শাখা সেক্রেটারি জে. মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক জাকের হোসাইন, সাহিত্য সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, আইন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সমাজ সেবা সম্পাদক তালহা জোবায়ের প্রমুখ।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শিবির নেতারা বলেন, একের পর এক মেধাবী ছাত্রদের গুম এবং হত্যা করে ঝিনাইদহকে বদ্ধভূমিতে পরিনত করেছে আওয়ামী অবৈধ সরকার। পবিত্র রমজান মাসেও নব্য রক্ষিবাহিনীর হিংস্রতা থেমে নেই।

তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, হত্যার রাজনীতি কখনো কারো জন্য শুভ পরিনতি বয়ে আনে না। বর্তমান স্বৈরাচার সরকার একের পর এক নিরপরাধ মেধাবি ছাত্র হত্যার মাধ্যমে নিজেদেরকেই কঠিন পরিনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, ঝিনাইদহে দুই শিবির নেতাকে বন্দুকযুদ্ধে হত্যার প্রতিবাদে কাল শনিবার দেশব্যাপি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের আহবান জানিয়ে বলেন, নিরপরাধ ছাত্রদেরকে হত্যা করে নিজেদের অপকর্ম ও ব্যর্থতা আড়াল করতেই এই হত্যাকান্ড করছে সরকার। আর এই পরিকল্পিত সরকারী হত্যাযজ্ঞের দায়িত্ব নিয়েছে স্বয়ং পুলিশ।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সরকার ও পুলিশের যৌথ হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে নিরপরাধ ছাত্ররা। প্রতিটি হত্যার ধরণ প্রায় একই, প্রথমে সাদা পোষাকের পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তার তার কয়েকদিন পর মিলছে তার লাশ।

তারই ধারাবাহিকতায় আটকের পর অস্বীকার ও ১৫ দিন গুম রেখে সরকারের নির্দেশে পুলিশ বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে দুই নেতাকে হত্যা করেছে।


এসএম