একজন নেত্রী দেশের উন্নয়ন করছেন আর আরেক জন নেত্রী গোলযোগ সৃষ্টি করে দেশকে ধ্বংস করার চক্রান্তে ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমীর ৬নং গ্যালারীতে যুবলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম ও বিশ্বে আজ ধ্রুবতারা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা’’ গ্রন্থের সপ্তাহব্যাপী সংবাদচিত্র প্রদর্শণীর অংশ হিসেবে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আজ বিস্ময়কর উত্থান হয়েছে। আর এই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বেগম খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তার এক লোক মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হতেন এই বাংলাদেশে কোন দিন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতো না। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে কোন দিন যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধীদের বিচার হতো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মঙ্গল কামনা করি।

তোফায়েল বলেন, এবার বাজেট হতে যাচ্ছে ৩ লক্ষ্য ৪০ হাজার কোটি টাকা। খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ বাংলাদেশ। চাল রফতানীর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা খুজবো। ইতোমধ্যেই আমাদের সঙ্গে কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা সাক্ষাৎ করেছে। আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে মেট্রোরেল চালু হবে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে আমাদেরকে অপমাণিত করেছিলো। আমাদের নেত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে আমাদেরকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন।

১৯৮১ সালের স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমি ৩৩ মাস কারাগারে কাটিয়েছিলাম। আমি কারাগারে থেকেই সাংগঠনিক সম্পাদককের দায়িত্ব পেলাম। ১৯৮১ সালের সম্মেলন ঘিরে যে বিভক্তি হয়েছিলো তার ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে শেখ হাসিনা। আমাদের সেদিনের সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিলো তা নেত্রী প্রমাণ করেছেন।

তোফায়েল বলেন, আমরা ১১ জন দিল্লী গেলাম ১৭ মে তারিখ নির্ধারণ করলাম। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বিমানবন্দরে আমার মনে হয়েছে আবার ১০ জানুযারি ফিরে এসেছে। সেদিন আমার মনে হয়েছে শেখ হাসিনার বেশে বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে। আমরা স্লোগান দিয়েছিলাম, ঝড় বৃষ্টির আধাঁর রাতে শেখ হাসিনা আমরা আছি তোমার পাশে।

তিনি বলেন, মানিক মিয়া এ্যাভিনিউতে আমরা যখন আসলাম তখন কানায় কানায় পূর্ণ। নেত্রী স্ট্রেজে উঠলেন। তিনি বললেন, আপনাদের মাঝেই আমি আমার হারানো বাবা-মা-ভাই সবাইকে খুজে পাবো। আমরা অনেক দিন মিরপুর রোডে বসে মিলাদ পড়তাম।

সভাপতির বক্তৃতায় যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশ যখন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই বিএনপি জামায়াত চক্র জঙ্গিদের ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করতে গুপ্তহত্যায় মেতেছে। আওয়ামী যুবলীগকে বিএনপি জামায়াতের এই অপচেষ্টাকে রুখে দাড়াতে এবং যেকোন ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে সর্বদা সর্তক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, যুবলীগ হচ্ছে দেশপ্রেমিক-সন্ত্রাসমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলার একটি সংগঠন। সুস্থ-সুন্দর সমাজব্যবস্থা গঠনে সবসময় এই সংগঠনটি দেশে গুরুত্বপূণ ভমিকা পালন করে এসেছে। সংগঠনের নামে কেউ বদনাম করবেন না।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: হারুনুর রশীদ এর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজ্জামেল বাবু, এসএ টিভির যুগ্ম বার্তা সম্পাদক জাহিদুর রহমান, গাজী টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক ইকবাল কবির নিশান, এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক মনিউর রহমান, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন, বেলাল হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু প্রমুখ।

ইআর/এমআইএস