কারাগারে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ শামীম আরজুকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১২ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা এম এ শামীম আরজু’র মৃত্যুতে এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিবৃতিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ কারাভ্যন্তরে তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, বরং এটি একটি হত্যা। সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী আরজুকে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো। কারাকর্তৃপক্ষের চক্রান্তে আরজু’র মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ী। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি-কে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তার গতিশীল নেতৃত্বের জন্যই তিনি সরকারের প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী সরকার দেশে পুরনো বাকশাল ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন ও দেশকে গণতন্ত্রশূন্য করার লক্ষ্যে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, গুমসহ তাদের বিরুদ্ধে অসত্য মামলা দায়ের করে পাইকারী হারে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারাগারগুলো ভরে ফেলেছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা সরকারি দমননীতির শিকার হয়ে শুধু বাহিরেই নয় মিথ্যা মামলায় কারাভ্যন্তরেও জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। একের পর এক কারাগারের ভেতরে বিএনপি নেতাদের জীবন চলে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া কারাগারে চিকিৎসা দিতে কারা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় এম এ শামীম আরজু’র অকাল মৃত্যুতে মরহুমের পরিবারবর্গের ন্যায় আমিও সমানভাবে সমব্যাথী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ও বলিষ্ঠ সংগঠক মরহুম এম এ শামীম আরজু কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিতে অত্যন্ত সুপরিচিত একটি নাম।’
বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই শোকাবহ ঘটনা গণতন্ত্রের সংগ্রামে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদেরকে আরও শক্তি যোগাবে। আমি সরকারের এহেন মানবতাবিরোধী ঘৃন্য আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।
ফখরুল কারাগারে মৃত্যুবরণকারী এম এম শামীম আরজু’র রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গ, শুভানুধ্যায়ী ও গুনগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন এ বিএনপি নেতা। এরপর থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি।
এর আগে সকালের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে উঠলে আরজুকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। দুপুরে হাসপাতাল থেকে তাকে আবারও নেয়া হয় কারাগারে। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।
এমএ শামীম আরজু কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন কুষ্টিয়া শহর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন তিনি।





