ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিলের হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার নতুন করে সংকট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, যেদিন মিন্টুর মনোনয়নপত্রে সমর্থনকারীর বিষয়ে প্রশ্ন তুলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, সেই একই দিনে মনোনয়ন পত্রের ছোট-খাটো ভুল সংশোধনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের কয়েক ঘণ্টা সময় দিয়েছেন।

নজরুল ইসলাম খান মনে করেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার তেমন সুযোগ দিলে মিন্টু ওই নির্বাচনী এলাকার লাখ লাখ সমর্থকের মধ্য থেকে একজনকে সমর্থক হিসাবে দেখাতে পারতেন।

তিনি আরো বলেন, মিন্টুর সমর্থনকারী ঢাকা মহানগরের বাসিন্দা হিসেবে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ হাজির করা সত্ত্বেও আপিল নিষ্পত্তির দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা তা আমলে না নিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখায় জনাব মিন্টুকে উচ্চ আদালতে যেতে হয়েছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, গত ৬টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় প্রমাণ করেছে যে জনগণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পেলে খুন, গুম এবং জনগণের অধিকার ও অর্থলুটকারী সরকারের সমর্থক প্রার্থীদের ভোট দেবে না।

তিনি মনে করেন, ‘সেকারণেই সরকার বিরোধী দলের প্রার্থীদের ওপর অত্যাচার করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে এবং সর্বশেষ মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিলের হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে সংকট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেশের প্রচলিত আইনে সিটি মেয়রসহ স্থানীয় সরকারের কোনো পদে নির্বাচনের জন্য কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে মনোনীত করতে পারে না এবং সরকারি পদধারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এসব নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না।’

‘অথচ দেশবাসী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছেন যে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আনিসুল হকের প্রতি তার সমর্থন ঘোষণা করেছেন এবং পরবর্তীতে তার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলীয় সভায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন’ যোগ করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা দেয়ার জন্য সামান্য একটি ত্রুটি দেখিয়ে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।’

তিনি বলেন, ‘নামে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও বর্তমান বশংবদ নির্বাচন কমিশন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী প্রহসনে যেমন ফরমায়েসী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পালন করে বিশ্বব্যাপী নিন্দিত হয়েছে- এবারও তারই পুনরাবৃত্তি শুরু করেছে।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঢাকাবাসীর পাশাপাশি মিডিয়ার কল্যাণে দেশবাসী জেনেছেন যে, বিরোধী দল সমর্থক জনপ্রিয় বহু প্রার্থীকে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা কিভাবে নমিনেশন পেপার কিনতে বাধা দিয়েছে, নমিনেশন পেপার কেনার অপরাধে হেনস্ত করেছে এবং নমিনেশন পেপার জমা না দেয়ার জন্য অন্যায়ভাবে চাপ দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মিরপুরের এক মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র কেনার পর বাসায় তাকে না পেয়ে তার স্বামীকে নির্দয় নির্যাতন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এধরণের কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য হলো সরকার দলীয় প্রার্থীদের যে কোনোভাবে বিজয়ী করা। এসব ব্যাপারেও নির্বাচন কমিশন স্বজ্ঞানে নিশ্চুপ হয়ে আছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, নানা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিএনপি ও ২০ দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে আটক, পায়ে গুলি করে পঙ্গু কিম্বা আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।

বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদকে গুম করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করার সুযোগে সরকার শূণ্য মাঠে গোল দেয়ার উদ্দেশে হঠাৎ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

‘কিন্তু বিএনপি ও ২০ দলের কৌশলী সিদ্ধান্তের ফলে গোটা পরিস্থিতি তাদের বিপক্ষে চলে যাওয়ায় এখন আজ্ঞাবহ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে মাঠে নামিয়েছে’ এতে অভিযোগ করা হয়।

এসএইচ