৫ জানুয়ারির ১০ম নির্বাচনের পর দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি সরকারেও নেই বিরোধী দলেও নেই। এ অবস্থায় কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট কঠোর কোনো কর্মসুচির দিকে না গিয়ে সাদা মাটা কর্মসূচি নিয়েই মাঠে রয়েছে। দেশি-বিদেশি চাপেই হোক আর আন্দোলনের কৌশল হিসেবেই হোক সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য কিছুটা প্রস্তুতি নিয়েই শুরু করতে চান বিএনপির হাইকমান্ড।
কিন্তু বিএনপির এই কৌশল আওয়ামী লীগ নিয়েছে দলটির দুর্বলতার সুযোগ হিসেবে। দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করার পর প্রথম দিকে আওয়ামী লীগ বেশ চাপে থাকলেও দিন দিন সেটি থেকে বেরিয়ে আসার পদক্ষেপে তারা অনেকটাই সফল। সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যে এমন আভাস পাওয়া যায়।
নির্বাচনের পর গত আড়াই মাসে নতুন নতুন মামলা ও গ্রেফতারের কারণে বিএনপি এখন অনেকটাই কোনঠাসা। রাজপথে কোনো ধরনের কঠোর কর্মসূচি না থাকলেও গত এক সপ্তাহে প্রায় দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ হাফডজন কেন্দ্রীয় নেতাকে নতুন করে জেলে যেতে হয়েছে।
১৯ মার্চ বুধবার দলটির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন হওয়ায় এটিকে সরকারের চরম রোষানল বলেই ধরে নিচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।
বিএনপির প্রতি সরকারের সাম্প্রতিক আচরণ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান টাইম নিউজবিডিকে বলেন, বিএনপির প্রতি সরকার যে আচরণ করছে বিশেষ করে ১০ম নির্বাচনের পর সেটি খুবই নির্মম ও নির্দয়। এর মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহি:প্রকাশ ঘটেছে। সরকার মনে করছে দমন-পীড়ন চালিয়ে বিরোধী দলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেই ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা যাবে। কিন্তু এভাবে তো গণতন্ত্র থাকে না।
বিএনপির আন্দোলনে স্তিমিত হয়ে পড়াকে সরকার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনই স্থবির বা স্তিমিত হয়ে যায় না। আন্দোলন চলমান প্রক্রিয়া, মাঝে মধ্যে কৌশল পরিবর্তন হয়।
দলের সূত্রে জানা গেছে, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মোট ২৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৫, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৪, কোকোর বিরুদ্ধে ৫ এবং তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে একটি। এদিকে সম্প্রতি তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধেও দুদক একটি মামলা দায়ের করেছে।
নতুন করে জামিন বাতিল ও গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন যেসব নেতা তারা হলেন-দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহসচিব মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়াও ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদসহ অনেক নেতা আগে থেকেই কারাগারে বন্দি।
দলের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে দলের লক্ষাধিক নেতা-কর্মী এখনো বিভিন্ন মামলার আসামি। প্রায় সব মামলায় অসংখ্য অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে। কাউকে আটক করা মাত্রই ওইসব মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। তৃণমূলে বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের প্রথম সারির নেতারা হয় কারাগারে, নয়তো হুলিয়া মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু টাইম নিউজবিডিকে বলেন, সরকারের বিএনপির প্রতি সাম্প্রতিক আচরণেই প্রমাণ করে তারা অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক। কারণ যে কোনো স্বৈরতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যত ধরনের পেশী শক্তি ব্যবহার করার দরকার এই সরকার তার সবগুলোই করছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে দেশের জনগণ যে কোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসবে। এজন্যই তারা ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে বিরোধী দল দমন করতে এখন বিচার ব্যবস্থাকেও কাজে লাগাতে চায়। ময়লার গাড়ি পোড়ানো মামলায় মির্জা ফখরুলসহ অন্য নেতাদের জামিন বাতিল করে জেলে ঢুকানো এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠণ তারই ইঙ্গিত বহন করে।
বিএনপির আন্দোলন থেকে সরে আসাটাকে সরকার দুর্বলতা হিসেবে দেখছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকার এটি মনে করলে চরম ভুল করবে। কারন আমি মনে করি বেগম খালেদা জিয়া বুঝেন কখন আবারও রাজপথে নামতে হবে।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ২০ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]
রাজপথে না থেকেও সরকারের রোষানলে বিএনপি
৫ জানুয়ারির ১০ম নির্বাচনের পর দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি সরকারেও নেই বিরোধী দলেও নেই। এ অবস্থায় কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট কঠোর কোনো কর্মসুচির দিকে না গিয়ে সাদা মাটা কর্মসূচি নিয়েই মাঠে রয়েছে। দেশি-বিদেশি চাপেই হোক আর আন্দোলনের কৌশল হিসেবেই হোক সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য কিছুটা প্রস্তুতি নিয়েই শুরু করতে চান বিএনপির হাইকমান্ড
রাত পোহালেই ভোট,কে জিতবে!জামায়াত না বিএনপি
রাত পোহালেই বহুল আলোচিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে চরম উত্তেজনা ও স্নায়ুযুদ্ধ বিরাজ করছে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা এখন সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নাহিদ ইসলাম বিএনপি-ছাত্রদলের দুর্দিনের বহু কান্ডারিও ভুক্তভোগী
বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় সারা দেশেই বিএনপি-ছাত্রদলের দুর্দিনের বহু কান্ডারি ভুক্তভোগী হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লিখেছেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারে নিজেদের লোক বসানোর পাঁয়তারা করছে বিএনপি
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বসানোর জন্য বিএনপি এখন থেকেই পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে তাদের দেওয়া র্যাঙ্ক চয়েস পদ্ধতির ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে হবে।
নাহিদ আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে যা যা করা প্রয়োজন, সবই করছে বিএনপি
আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দলটিকে ফিরিয়ে আনতে যা যা করা প্রয়োজন, বিএনপি সরকার তাই করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনারা (বিএনপি) নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি।’














