ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ বলেন বাংলাদেশ বিশ্বের একটি অপার সম্ভাবনারদেশ। কিন্তু যোগ্য মানুষের অভাবে আমরা আমাদের লুকায়িত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে ব্যর্থ হচ্ছি। পৃথিবীর ধনী দেশগুলো নানা প্রলোভন দেখিয়ে এদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের দেশে নিয়ে যাচ্ছে।সম্ভাবনার বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে মেধাবীদের এগিয়ে আসতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর শিবির’র উদ্যোগে এস এস সি/দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রতি বছর মেধার শীর্ষে থাকা সেসব মেধাবী শিক্ষার্থী বিদেশে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে আর ফিরে না আসায় আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমিকে তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। তাছাড়া রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির কারণে সম্ভাবনাময় মেধাবীরা উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে গিয়ে বিপদগ্রস্থ হয়ে তাদের মা বাবার আজন্ম লালিত স্বপ্ন বিনষ্ট করে দিচ্ছে।

দেশের বর্তমান পরিবেশে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে একটি সৎ, দক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধবাংলাদেশ গড়ার জন্য ছাত্রশিবির নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।। আজ মেধাহীন ও সন্ত্রাস নির্ভর ছাত্র রাজনীতির বিপরীতে ছাত্রশিবির এদেশের ছাত্র সমাজের কাছে সন্ত্রাসমুক্ত মেধাবীদের প্রিয় ঠিকানা হিসেবে পরিণত হয়েছে।

তাই স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে যারা বাংলাদেশকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন ছাত্রশিবিরকে বাদ দিয়ে এদেশে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য তিনি দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে মেধাবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

নগর উত্তর শিবির সভাপতি সালাউদ্দিন মাহমুদ’র সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী নাজিব আহসান ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক শাহ মু. মাহফুজুল হক চৌধুরী, শিবির নেতা এস কে সিকদার, ইঞ্জি.মাহবুবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, শাকিল রায়হান, সালাম সিদ্দিক, সালেহ রায়হান, রিদুয়ানুল হক জিসান প্রমুখ। কৃতি ছাত্রদের মধ্যে সাঈদ খান ও আকরামুল হুদা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

প্রধান বক্তা শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের প্রশাসনের প্রত্যেক রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি চেয়ে গেছে। তার উপর ক্ষমতাসীন সরকার দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ বানাতে নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়নের নামে জাতিকে ধর্মহীন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

যার দরুন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলামী ভাবধারার লেখকদের প্রবন্ধ-কবিতা উঠিয়ে দিয়ে তার পরিবর্তে নাস্তিক্যবাদী শিক্ষা চালু করেছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় জোর পূর্বক চেপে বসা অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে শিক্ষাঙ্গনে সেশন জট, সরকার দলীয় ক্যাডারদের সন্ত্রাস ও সীমাহীন দুর্নীতি, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অপতৎপরতায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে উপনীত হয়েছে। এর ফলে দেশে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেকারত্বের হার।

পরিকল্পিত ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধর্মহীন করার সুগভীর চক্রান্তের ব্যাপারে আমাদের সজাগ ও সচেতন থেকে নৈতিকতা বিরোধী ও জাতি বিনাশী শিক্ষা আইনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সভাপতি সালাউদ্দিন মাহমুদ মেধাবীদের উদ্দেশ্যে বলেন একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে মেধাবীদের এগিয়ে আসতে হবে। দেশকে কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেধাবীর জন্যে যা যা করণীয় তা করতে ছাত্রশিবির সাধ্য মতো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সে সাথে নিজেদের পড়ালেখার পাশাপাশি আদর্শিক জ্ঞান অর্জন করে নিজেকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গঠন করার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ মেধার স্বীকৃতি হিসেবে উপস্থিত কৃতি ছাত্রদের হাতে ক্রেস্ট, ফুল ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন।

এআই