সাঈদীর ‘নন্দিত জাতি, নিন্দিত গন্তব্যে’ বইটি বাজারে

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী লেখা ‘নন্দিত জাতি নিন্দিত গন্তব্যে’ নামক বইটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ২০০৯ সালের প্রথমদিকে মাওলানা সাঈদী বইটি লেখার কাজ শেষ করেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারনে বইটি তখন প্রকাশ করতে পারেননি।

পরবর্তীতে ২০১০সালের জুনে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের’ মামলায় গ্রেফতার হন। ফলে তার পক্ষ্যে বইটি আর প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারীর বই মেলাকে উপলক্ষ্য করে ‘নন্দিত জাতি নিন্দিত গন্তব্যে’ বইটি প্রকাশ করা হয়েছে।

‘নন্দিতজাতি, নিন্দিত গন্তব্যে’ নামের এই বইটি প্রকাশ করেছে গ্লোবাল পাবলিশিং নেটওয়ার্ক নামের একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। লেখকের মেজো ছেলে শামীম সাঈদী ৫২৪ পৃষ্ঠার এ বইয়ের প্রকাশক। প্রচ্ছদ করেছেন সেজো ছেলে মাসউদ সাঈদী। বইটিতে আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেছেন।

ঢাকার বড় মগবাজারের নাবিল কম্পিউটার থেকে কম্পোজ করা ও বাংলাবাজারের আল আকাবা প্রিন্টার্স থেকে মুদ্রণ করা হয়েছে। পাঁচ অধ্যায়ের এ বইটি উৎসর্গ করাহয়েছে, লেখকের মরহুম বড় ছেলে মাওলানা রাফিক বিন সাঈদীকে।

বইয়ের শুরুতে ‘মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে যা বলতে চেয়েছি’ শিরোনামে পাঠকদের কাছে ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে বইটি পড়ার অনুরোধ করেছেন।

বইয়ের১৩ পৃষ্ঠায় লেখক অভিযোগ করেছেন, শুধু কোরআন প্রচারের অপরাধেই ফাঁসিরদণ্ডাদেশ শুনতে হয়েছে সাঈদীকে। ৩৭৭ থেকে ৪১১ পৃষ্ঠায় শাহ ওয়ালী উল্লাহদেহলভী, হাজী শরিয়ত উল্লাহ ও মীর নিসার আলী তিতুমীর প্রমুখের জীবনকেব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বর্তমানপরিস্থিতিতে তিনি আলেম সমাজের করণীয় বাতলে দিয়েছেন বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে।এই অধ্যায়ে আরো রয়েছে, ‘জিহাদ ইমানের অপরিহার্য দাবি, মুমিনের জিন্দেগি ওজিহাদ, জিহাদই ইমানের কষ্টি পাথর, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই সশস্ত্রজিহাদের উদ্দেশ্য এবং জিহাদই জান্নাত লাভের একমাত্র পথ’ শীর্ষক কয়েকটিঅনুচ্ছেদ।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বইয়ের ৩২০ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতারপরে আওয়ামী লীগ প্রতিবেশী দেশের প্রভাবে এবং দেশীয় বা নিজ দলীয় নাস্তিকদের পরামর্শে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ সংযোজন করেছিল। অথচ আওয়ামী লীগের ছয় দফায় ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের উল্লেখ ছিল না।’ তবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে একই পৃষ্ঠায় বিশেষায়িত করা হয়েছে ‘মহান’ অভিধায়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির দৃষ্টান্ত এসেছেবইয়ের ৩২৭ পৃষ্ঠায়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বেরঅন্যান্য দেশেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অস্তিত্ব সগৌরবে বিরাজমান।’

৩৬৭ পৃষ্ঠায় অমুসলিম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মুঘল সম্রাট আকবরকে। বলা হয়েছে, ‘সম্রাট আকবরের নামটি শুধু মুসলিমদের অনুরূপ ছিল। প্রকৃতপক্ষে তিনি মুসলিম ছিলেন না। আকবর স্বয়ং কপালে চন্দন তিলক ব্যবহার করতেন। সূর্য বন্দনাকরতেন।’ রেফারেন্স ও নিজের প্রকাশিত বইয়ের একটি তালিকা উল্লেখ করে শেষ করাহয়েছে ৩৩ ফর্মার এই বইটি।

এই লিংকে বইটি পাওয়া যাচ্ছেhttp://icsbook.info/2245/shibir

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ, এআর